ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
চুয়াডাঙ্গার নীরব, ক্ষতবিক্ষত এক রাজনৈতিক ঠিকানায় যেন আবারও জেগে উঠল পুরোনো স্লোগানের প্রতিধ্বনি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ‘অবমুক্ত’ করার ঘোষণা দিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী—এক নাটকীয়, রোমাঞ্চকর উপস্থিতিতে।
শুক্রবার সকালের মৃদু আলোয়, পৌরসভা মোড়ের সেই পরিচিত কিন্তু আজ পরিত্যক্ত ভবনের সামনে জড়ো হন তারা। ভিডিওতে দেখা যায়—পাঁচজনের ছোট একটি দল, নেতৃত্বে পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমদাদুল হক সজল। কারও মাথায় হেলমেট, কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে দলীয় পতাকা—এক অদ্ভুত প্রতীকী দৃশ্য, যেন ধ্বংসের বুক চিরে পুনর্জাগরণের ঘোষণা।
আবার স্লোগানের তালে তালে তারা ঘোষণা দেন—এই কার্যালয় এখন ‘অবমুক্ত’। তাদের কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, চোখে ছিল এক অদৃশ্য প্রত্যয়ের আগুন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তৈরি হয় নতুন আলোচনার ঢেউ।
এদিকে এ ভবন শুধুই একটি স্থাপনা নয়—এটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার এক জীবন্ত সাক্ষী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথম দফায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতবিক্ষত হয় কার্যালয়টি। এরপর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফার হামলায় বুলডোজারের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ভবনের সামনের অংশ।
তবে চারতলা ভবনটি এখন নিঃশব্দ, পরিত্যক্ত—কিন্তু সেই নীরবতার মাঝেই যেন হঠাৎ জেগে উঠল রাজনৈতিক উত্তাপ, আবেগ আর প্রতীকের নাটকীয় মিশেল। ধ্বংসের ভেতর দাঁড়িয়ে ‘অবমুক্তির’ এই ঘোষণা—এ যেন শুধুই একটি কর্মসূচি নয়, বরং হারানো দখল, স্মৃতি আর ক্ষমতার এক রোমাঞ্চকর পুনর্দাবির গল্প।
এ ঘটনার স্পষ্ট বার্তা সারা বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের দলে দলীয় কর্নীমকাণ্ডে সরব থাকার ইঙ্গিত।
