রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিখোঁজের পর মিলল ড্রামে লাশ—প্রতিবেশীর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো শিউরে ওঠা কাহিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ১০:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শিশু রিফাত

মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ—সেই ক্ষুদ্র বিরোধই শেষ পর্যন্ত রূপ নিল এক বিভীষিকাময় ট্র্যাজেডিতে। সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু রিফাতের মৃত্যুতে স্তব্ধ পুরো এলাকা। প্রতিবেশীর ঘরেই ঘটল এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা শুনলে শিউরে উঠতে হয়।

পুলিশ জানায়, দুই–তিন মাস আগে প্রতিবেশী মায়া বেগম ওরফে লাবণীর মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ে রিফাতের বোনের দিকে। সেই সন্দেহ থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হয় মনোমালিন্য, তর্ক-বিতর্ক আর অস্বস্তির দূরত্ব। কিন্তু কেউ ভাবেনি—এই বিরোধ একদিন একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেবে।

মঙ্গলবার বিকেলে খেলতে বেরিয়েছিল রিফাত। মায়ের কাছে বলেছিল, “একটু গিয়ে আসি।” কিন্তু সেই যাওয়া আর ফেরা হলো না। অভিযোগ অনুযায়ী, রাস্তায় একা পেয়ে লাবণী খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিজের বাসায় ডেকে নেন। সেখানে আবারও মোবাইল ফোন চুরির কথা জিজ্ঞাসা করেন। শিশুর অস্পষ্ট জবাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে রিফাতকে জোরে থাপ্পড় দিলে টাল সামলাতে না পেরে খাটের সঙ্গে মাথা আঘাত পায়—আর তাতেই নিভে যায় একটি কোমল প্রাণ।
এরপর শুরু হয় আরও ভয়ংকর অধ্যায়। নিজের অপরাধ ঢাকতে ছোট্ট নিথর দেহটি ঘরের প্লাস্টিকের চালের ড্রামে ভরে সারারাত পাহারা দেন লাবণী। পরদিন সকাল হলে অটোরিকশায় করে ড্রামটি নিয়ে যান পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায়। লোহারপুলের ময়লার স্তুপে ফেলে দিয়ে নিশ্চিন্তে বাসায় ফেরেন—ভাবেন, সব প্রমাণ মুছে গেছে।
কিন্তু সত্য লুকিয়ে থাকে না। বুধবার রাতে ড্রামের ভেতর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে ছুটে আসা মা মুন্নি আক্তার গেন্ডারিয়া থানায় গিয়ে ছেলের নিথর দেহ শনাক্ত করেন। সেই মুহূর্তে মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ—একজন মায়ের পৃথিবী যেন থেমে যায়। তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, লাশের জামা আর এলাকাবাসীর তথ্য মিলিয়ে ধীরে ধীরে খুলতে থাকে রহস্যের জট। রিফাতের বোনের দেওয়া তথ্য থেকে সন্দেহ গিয়ে পড়ে লাবণীর ওপর। শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়ে তিনি এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কদমতলীর খানকাহ শরীফ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত লাবণী স্থানীয় একটি স্কুলে দপ্তরি হিসেবে কাজ করতেন। তার স্বামী রিকশার গ্যারেজে শ্রমিক। আর নিহত রিফাতের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন পেশায় অটোরিকশাচালক—স্বপ্ন ছিল ছেলেকে মানুষ করবেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ নিথর ড্রামের ভেতরেই থেমে গেছে।
একটি মোবাইল ফোনের সন্দেহ, সামান্য ক্ষোভ আর মুহূর্তের রাগ—সবকিছু মিলে কেড়ে নিল এক নিষ্পাপ শিশুর জীবন। রিফাতের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক বেদনাদায়ক প্রশ্ন হয়ে রইল—আমাদের ক্রোধ কি এতটাই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, যে তাতে হারিয়ে যায় মানবতা?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।