রাজধানীর পল্লবীর বাসা থেকে এক দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে অটোরিকশাচালক মো. মাসুমের (৩৪) নিথর দেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। আর বিছানায় ছিল তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩২), তাদের চার বছরের ছেলে মিনহাজ ও দুই বছরের ছেলে আসহাবের মরদেহ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। কীভাবে তাদের মৃত্যু হয় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের (পল্লবী) বি-ব্লকের বিহারি ক্যাম্পের তিন নম্বর ওয়াপদা ভবনের নিচতলায় থাকতেন মাসুম। ওই বাসার একটি কক্ষে তাঁর সঙ্গেই থাকতেন স্ত্রী ও ছোট দুই ছেলে। আরও দুটি কক্ষে তাঁর দুই ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন। একই ভবনের আরেক কক্ষে থাকেন তাদের বাবা-মা। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালানো একটি বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মী গতকাল বেলা ১১টার দিকে মাসুমের বাসায় যান। তখন প্রথমে ঘরের দরজা বন্ধ মনে হয় তাঁর। পরে দরজায় জোরে ধাক্কা দিলে সেটি খুলে যায়। ওই সময় তিনি মাসুমকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। তখন তিনি চিৎকার করে বের হয়ে আসেন। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা জড়ো হন। এরপর তারা ঘরে ঢুকে চারজনের মৃতদেহ দেখতে পান। একই সঙ্গে অন্যান্য ঘর থেকে মাসুমের স্বজনরা আসেন। শেষে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়।
মাসুমের মা জরিনা বেগম জানান, সকালে তার মনে হয়েছিল ছেলে অসুস্থ, তাই একটু বেলা করে ঘুমাচ্ছে। এ কারণে তিনি ডাকাডাকি করেননি। পরে সবার হট্টগোল শুনে ছেলের ঘরে গিয়ে দেখেন ভয়াবহ দৃশ্য। ছেলে, ছেলের স্ত্রী, তাদের দুই সন্তান– কেউ আর বেঁচে নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে কেউ বাসায় ঢুকেছে বলে তাঁর মনে হয়নি। কারও সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। সে ক্ষেত্রে কী কারণে চারজনের এমন মৃত্যু তা তিনি বুঝতে পারছেন না। মাসুমের বড় মেয়ে মাহফুজা রাতে তার (দাদির) সঙ্গে ঘুমিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
মাসুমের ফুফাতো ভাই শাহ মান্না বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হচ্ছে, অভাব-অনটনের কারণেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে। অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চলত মাসুমের। তাঁর বড় মেয়ে মাহফুজা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। আগামীতে তার বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ছোট দুই ছেলেকে কীভাবে পড়ালেখা করাবেন, কীভাবে সংসার চলবেন– এসব বিষয় নিয়ে মানসিকভাবে চাপে ছিলেন তিনি। সে কারণেই হয়তো স্ত্রী-সন্তানদের বিষ খাইয়ে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে মাসুম তাঁর আর্থিক অনটনের কথা কাউকে বলেননি বা কারও কাছে সাহায্য চাননি। একটি এনজিওতে তারা অল্প কিছু টাকা সঞ্চয় করতেন। তবে সেখানে বা অন্য কোথাও তাঁর কোনো ঋণ ছিল না।
