ভালুকার কংশেরকুল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দুজনকে প্রকাশ্যে ভোট দিতে দেখা যায়।
ময়মনসিংহ–১১ (ভালুকা) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন।
উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটারদের গোপন কক্ষে না গিয়ে প্রকাশ্যেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ফেলতে বাধ্য করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও দুই পোলিং কর্মকর্তাকে সরিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও ফিরোজ হোসেন বলেন, “ভোট অবশ্যই গোপনে দেওয়ার নিয়ম। প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ভোটারদের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য
দীপালি আক্তার নামের এক নারী ভোটার অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে বাড়িঘর ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, “তাঁরা দেখতেছে, আমরা ভোট কই দেই। তাইলে এখানে গোপনে কেরে; পর্দা দিছে কেরে—ভোট দোহায়া দিবার লাইগ্যা? যার যেহান ইচ্ছা, হেইনে ভোট দিব।”
অন্যদিকে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মজিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার কোনো ঘটনা তাঁর চোখে পড়েনি। এজেন্টদের বের করে দেওয়ার বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট এশফাকুর রহমান অভিযোগ করেন, সকালে কেন্দ্রে গেলে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকেরা তাঁদের ছয়জন এজেন্টকে মারধর করে বের করে দেন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবার বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।
ভোটের চিত্র
কংশেরকুল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ছয়টি বুথে মোট ২ হাজার ৮৭৬ জন ভোটার রয়েছেন—নারী ও পুরুষ সমানসংখ্যক ১ হাজার ৪৩৮ জন করে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রথম দুই ঘণ্টায় ৪৩০টি ভোট পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৯২০টি।
কেন্দ্রে সব প্রার্থীর এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন না। বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের এজেন্টরা সব বুথে থাকলেও দুটি বুথে এনসিপি এবং একটি বুথে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের এজেন্ট ছিলেন।
অন্য কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ ভোট
এদিকে উপজেলার ভালুকা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ৭০ বছর বয়সী আজিজুর রহমান বলেন, “১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। এবার সুযোগ এসেছে, তাই দেরি করিনি। একসঙ্গে দুইটা ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।
তহুরা খাতুন জানান, তিনি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছেন। নতুন ভোটার হাফেজ আহমেদ বলেন, “দুইটা ভোট দিতে কষ্ট হবে ভাবছিলাম, কিন্তু সহজেই দিতে পারলাম”—এ আনন্দকে তিনি ঈদের সঙ্গে তুলনা করেন।
জেলার সার্বিক চিত্র
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ময়মনসিংহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণমূলক এই নির্বাচনে নারী-পুরুষের পাশাপাশি নতুন ভোটারদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য।
জেলায় ৫৮৩টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। তবে সকাল থেকে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও বড় ধরনের গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।
এবার ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনের ১ হাজার ৩৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ জন, নারী ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪১ জন। জেলায় নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫৩ হাজার।
