কিশোর সায়র হত্যায় গ্রেপ্তার ৬ জন। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার জের ধরে কিশোর আল আদিয়াত সায়রকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় পুলিশের এ অভিযান চালানোর সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন– তাসলিমা আক্তার, আরাফাত হোসেন, সাকিব খান, নয়ন মিয়া, নুরুজ্জামান শ্যামল ও রাকিব মিয়া। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।
ডিবি সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের তরুণী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে আল আদিয়াত সায়রের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সায়র গোপনে প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ধারণ করে। পরে সে কয়েক বন্ধুর সঙ্গে সেই ছবি শেয়ার করে। এক সময় তাসলিমার সঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসী আরাফাত হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আপত্তিকর ছবির বিষয়টি জেনে আরাফাত দেশে এসে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি গত ২ নভেম্বর দেশে আসেন। পরদিন তাসলিমা পরিকল্পনা অনুযায়ী সায়রকে নিয়ে পূর্বাচল ৩০০ ফুট এলাকায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে তারা গাজীপুরের উলুখোলায় গেলে হুজাইফা ও ইজিবাইক চালক রাকিব তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। তারা রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইজিবাইকে গাজীপুরের পূবাইল থানার বিন্দান রোডে গেলে রাকিব ও আরাফাত সায়রের গলা টিপে ধরেন এবং শ্যামল, হুজাইফা, নয়ন ও রাজ হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে লাশ ইজিবাইকে করে ঘোড়াশাল-টঙ্গী মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যান তারা।
ডিবি জানায়, এ ঘটনায় আদালতে একটি নালিশী পিটিশন দাখিল করা হয়। আদালতের নির্দেশে কদমতলী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। গত ২৬ নভেম্বর ডিবি ওয়ারী বিভাগ মামলাটির তদন্তভার নেয়। এর পর ডিবি প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির আরেকটি দল টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকা থেকে জড়িত বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
