জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও মিছিল করে টাফ। ছবি: সংগৃহীত
শ্রমিক অধিকার যেন শুধুই দাবি নয়, এক গভীর ভালোবাসা—নিজেদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা আর মর্যাদার প্রতি অটুট টান থেকেই রাজপথে নেমেছেন শ্রমজীবী মানুষ। সেই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটল মানববন্ধন আর মিছিলে, যেখানে কণ্ঠে ছিল দাবি, চোখে ছিল প্রত্যাশার দীপ্তি।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এ কর্মসূচি। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শ্রমিক নেতা তাসলিমা আখতার। তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, কিন্তু সেই দৃঢ়তার ভেতরেও ছিল শ্রমিকদের প্রতি গভীর মমতা।
বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ যেন এখন বাস্তবের আলো দেখে। শ্রমিক, মালিক, অর্থনীতিবিদ ও আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তৈরি হওয়া এই অধ্যাদেশ শুধু একটি আইন নয়—এটি লাখো শ্রমজীবী মানুষের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আশরাফ তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের সমন্বিত উদ্যোগ এই অধ্যাদেশকে আরও শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা—সংসদের ভালোবাসার ছোঁয়ায় এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ নেওয়ার।
মানববন্ধনে বক্তারা আবেগঘন কণ্ঠে তুলে ধরেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভিড়ে এই শ্রম অধ্যাদেশই সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে মানুষের জীবনকে। কারণ, এতে রয়েছে শ্রমিকদের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতিশ্রুতি—যেন জীবনের প্রতিটি সংগ্রামে এক নীরব সঙ্গী।
নতুন সংশোধনীগুলোর মধ্যে রয়েছে—সহজ শর্তে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, গৃহশ্রমিকদের স্বীকৃতি, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, উৎসব ছুটি, নিয়মিত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা। এসব যেন শ্রমিক জীবনের প্রতিটি অন্ধকার কোণে একটুখানি আলোর স্পর্শ।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে তা হারিয়ে যেতে পারে—যেন অপূর্ণ থেকে যাওয়া এক ভালোবাসার গল্প। তাই ঈদের পর শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনেই এটিকে ‘শ্রম আইন-২০২৬’ হিসেবে পাস করার জন্য জোর দাবি জানান তারা।
শেষ পর্যন্ত, এই আন্দোলন শুধু অধিকার আদায়ের নয়—এটি এক সম্পর্কের গল্প, যেখানে শ্রমিক আর রাষ্ট্রের মাঝে গড়ে উঠছে বিশ্বাস, প্রত্যাশা আর ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায়।
