বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্ল্যানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণ করা ভবনের জন্য হচ্ছে নতুন বিধিমালা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: প্ল্যান ছাড়া ভবন নির্মাণকারীদেরও আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে

বিশেষ প্রতিনিধি
অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

প্ল্যান ছাড়া ভবন নির্মাণ কিংবা অনুমোদিত প্ল্যানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণকারীদের জন্য নতুন একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ চলছে। একই সঙ্গে দেশের নগর উন্নয়ন ও নির্মাণ খাতকে একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, যারা প্ল্যান ছাড়া বিল্ডিং করছেন বা প্ল্যান নিয়ে সেটার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, তাদের জন্য একটি বিধিমালা তৈরি হচ্ছে। এটা নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, গত সাত মাসের মধ্যে রাজউকের মতো আরও ছয়টি নতুন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশাল। এর আগে আরও চারটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ছিল। পর্যায়ক্রমে বগুড়া নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনই প্ল্যান অনুমোদন দেয় এবং তারাই নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। ফলে সেখানে কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালান্স থাকে না। তাই সবাইকে একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গুলশান-বনানীর ৭০-৮০ শতাংশ ভবনে নেই সেফটি ট্যাংক-সোকওয়েল

নগরীর বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গুলশান, বনানীর লেক ও হাতিরঝিল লেক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে ছয়বার বৈঠক করেছেন। গুলশান-বনানীর বাড়িগুলোর মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবনে পরিকল্পনার সময় যে সেফটি ট্যাংক ও সোকওয়েল থাকার কথা ছিল, সেগুলো করা হয়নি।

তিনি বলেন, নামী-দামি ডেভেলপাররাও ভবন নির্মাণ করে সুয়ারেজের বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধান না করেই তা ছেড়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। গুলশান, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে ইতোমধ্যে তিন থেকে চারবার বৈঠক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এক প্ল্যানে আর চলবে না—আর্কিটেকচার থেকে ইলেকট্রিক্যাল পর্যন্ত সমন্বিত অনুমোদন

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, আগে শুধু একজন আর্কিটেক্টের একটি প্ল্যান পাস করা হতো। এখন আর্কিটেকচার, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যালসহ সব ধরনের পরিকল্পনা সমন্বিতভাবে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনি প্ল্যানটা দেবেন এবং সেটা পাস হওয়ার পরে, আমরা অনুমোদন দেওয়ার পরে যে বিল্ডিংটা হবে, সেটার যে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট, সেটা পেতে হলে ওই যারা যে ডিজাইনটা করেছেন, তাদেরকে সার্টিফাই করে দিতে হবে যে বিল্ডিংটা সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়েও হবে মাস্টার প্ল্যান

মন্ত্রী আরও বলেন, আরবান ডেভেলপমেন্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রথমে মেট্রোপলিটন সিটিগুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

পরবর্তী সময়ে বড় শহরগুলো থেকে শুরু করে একেবারে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নীতিনির্ধারক-পরিকল্পনাবিদদের মিলনমেলা

অনুষ্ঠানে দেশের আবাসন, নির্মাণ, জ্বালানি ও নগর পরিকল্পনা খাতের নীতিনির্ধারক, পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

‘পলিসি কনক্লেভে এলপিজি ও সোলার’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী।

‘নির্মাণে দেশীয় সক্ষমতা’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিএসএমএর সভাপতি এবং ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং জিএমইএবির সভাপতি ও নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস।

‘স্মার্ট-সবুজ আবাসন ও অর্থায়ন’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন স্পেসজিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন এবং এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবন্তী দত্ত।

এ ছাড়া ‘প্রাথমিক আলোচনা ও বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি: আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ণ’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।