রাখে আল্লাহ মারে কে’—প্রচলিত এই প্রবাদের বাস্তব প্রতিফলন যেন দেখা গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। একসময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে কারাগারে বন্দি ছিলেন—এমন তিন নেতা এবার সরাসরি ভোটের রায়ে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদে।
এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনজনই পৃথক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। আপিল ও পুনর্বিবেচনার দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে খালাস পান, কারামুক্ত হন—আর এবার ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়ে যাচ্ছেন সংসদে।
নেত্রকোনা-৪: বাবরের প্রত্যাবর্তন
নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরি) আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী লুৎফুজ্জামান বাবর। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট।
২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হন তিনি; দুটি মামলায় হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটানোর পর পর্যায়ক্রমে খালাস পান। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর গত বছর কারামুক্ত হন তিনি।টাঙ্গাইল-২: পিন্টুর জয়
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে আবদুস সালাম পিন্টু পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর কারাগারে থাকার পর তিনি মুক্তি পান। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেও পরে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পান। মুক্তির পর এবার সরাসরি ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে ফিরছেন সাবেক এই উপমন্ত্রী।
রংপুর-২: আজহারের নতুন অধ্যায়
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জয় পেয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় আপিলে বহাল থাকলেও পরবর্তীতে নতুন শুনানিতে আপিল বিভাগ তাকে খালাস দেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়। দীর্ঘ ১৩ বছর কারাগারে থাকার পর মুক্তি পান তিনি।
রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়
একসময় যাদের জন্য ছিল ফাঁসির মঞ্চ, তাদের জন্য এখন সংসদের আসন। সমর্থকদের কাছে এটি ‘ন্যায়ের জয়’, সমালোচকদের কাছে ‘রাজনীতির বড় মোড়’। তবে বাস্তবতা হলো—জনগণের ভোটেই তারা নির্বাচিত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং রাজনৈতিক নাটকীয়তার এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকল—যেখানে কারাগারের অন্ধকার পেরিয়ে তিন নেতা এখন জাতীয় সংসদের আলোয় বসতে যাচ্ছেন। প্রকৃতির নিয়ম মেনে সবকিছু পরিচালিত হয় । সাম্প্রতিক বাস্তবতা থেকে সবাইকে শিক্ষা নেওয়াই শ্রেয়।
