গাইবান্ধার ফুলছড়িতে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে জাসাস নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রক্তাক্ত এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।
গত ১৯ মার্চ বিকেলে ফুলছড়ি ইউনিয়নে জাসাসের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী ও তার সশস্ত্র বাহিনী এই হামলার নেতৃত্ব দেয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য শুকুর আলী ফিরোজের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই নৃশংস হামলা সংঘটিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধা ও ছাত্র হত্যা মামলার আসামি ফিরোজের ইন্ধনেই হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এই তাণ্ডব চালায়।
বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগকে টার্গেট করেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে লোকজন উপস্থিত থাকায় আগুন ধরাতে ব্যর্থ হয়ে হামলাকারীরা ক্ষোভে উন্মত্ত হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
হামলার সময় ফরহাদ হোসেনের বাবা জামাল বাদশাসহ অন্তত ১৩ জনকে লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। তাদের চিৎকারে মুহূর্তেই এলাকা ভারী হয়ে ওঠে আতঙ্কে। গুরুতর আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন—যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর থেকে ভয়ে-আতঙ্কে দিন কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারটির। প্রতিটি রাত যেন তাদের কাছে এক নতুন দুঃস্বপ্ন—যেকোনো সময় আবারও হামলার আশঙ্কায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের কণ্ঠেও একই দাবি—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ফুলছড়ি থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ফরহাদ হোসেন ৫১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রক্ত,ভয় আর অনিশ্চয়তায় মোড়া ফুলছড়ির এই রাত—শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার শান্তি কেড়ে নিয়েছে। এখন সবার চোখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে—কবে মিলবে ন্যায়বিচার, কবে ফিরবে স্বস্তির নিঃশ্বাস।
