প্রতারক মিলন হোসেন পা ধরে ক্ষমা চাচ্ছেন
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় টাকার বিনিময়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্ধশতাধিক নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ছবি সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে মিলন হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কেরালকাতা গ্রামে। এ ঘটনায় কেরালকাতা ইউনিয়ন বিএনপি-র সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও উদ্ধার- গত শনিবার সকালে কেরালকাতা গ্রামের উত্তরপাড়ার কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে টাকা, এনআইডির ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা নারীদের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত মিলনের বাড়িতে যান।
সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মিলন ৫২ জন নারীর ছবি ও এনআইডির ফটোকপি বের করে দেন এবং স্বীকার করেন যে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসব সংগ্রহ করেছিলেন।
পুলিশের ভূমিকা:মিলনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয় মানুষের অনুরোধে তাকে পরিবারের জিম্মায় রাখা হয়। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে কলারোয়া থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত- জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, অভিযুক্ত মিলন স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে অতীতে হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। তিনি কয়েকবার কারাভোগও করেছেন বলে জানান।
এনআইডি কার্ড উদ্ধারকালে কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও হেলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মুনসুরসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের এমন অভিযোগে ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
