প্রতীকী ছবি
ভালোবাসার গল্পটা শুরু হয়েছিল নতুন সংসারের স্বপ্ন নিয়ে—কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো।
গতকাল ২৩ মার্চ জামালপুরের সরিষাবাড়ীর নিস্তব্ধ গ্রাম ডোলভিটির পূর্বপাড়া। রাতের অন্ধকারে যখন নতুন বউকে ঘরে তোলার কথা, তখনই ভালোবাসার সেই পথ রুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় পুরনো বিরোধের দেয়ালে। নববধূ শিলা আক্তারকে নিতে স্বামী রনি মিয়া বন্ধুদের সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান—হয়তো মনে ছিল সংসার গড়ার কোমল স্বপ্ন, দুজনার নতুন জীবনের শুরু। কিন্তু বাস্তবতা যেন নির্মম। মেয়েকে দিতে অস্বীকৃতি, কথার লড়াই, আর সেই লড়াই মুহূর্তেই রূপ নেয় উত্তপ্ত সংঘর্ষে। ভালোবাসার জায়গা দখল করে নেয় রাগ, ক্ষোভ আর প্রতিহিংসা।
এই উত্তাল পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন সোহেল রানা—একজন সাধারণ মানুষ, যার ইচ্ছে ছিল শুধু ঝগড়াটা থামানো, শান্তি ফিরিয়ে আনা। কিন্তু ভাগ্য যেন তাকে বেছে নিয়েছিল এক নির্মম পরিণতির জন্য। লাঠির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে ধানক্ষেতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সেখানেই নিভে যায় তার জীবনের আলো।
গ্রামের বাতাস তখনো ভারী হয়ে আছে শোক আর আতঙ্কে। সেই শোকের মধ্যেই আরও এক হৃদয়বিদারক ঘটনা—সোহেলের নিথর দেহ দেখতে এসে মঞ্জু মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। যেন এক মৃত্যু আরেক মৃত্যুকে ডেকে আনল।
পুলিশ এসে নিথর দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, আর গ্রামের মানুষ রয়ে যায় এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায়—যেখানে নতুন বউকে ঘরে তোলার আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধু কান্না, হাহাকার আর অপূর্ণ স্বপ্নের ভার।
এই ঘটনার পর অভিযুক্তরা পলাতক। আর ভালোবাসার সেই গল্প—যা শুরু হয়েছিল দুজন মানুষের মিলনে—শেষ হলো দুইটি প্রাণের করুণ বিদায়ে, রেখে গেল এক প্রশ্ন: ভালোবাসা কি সত্যিই এতটা অসহায়?
