জেলা কার্যালয়ে যেন নতুন ভোরের আলো। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, বদলির আদেশ আর বিতর্কের ধোঁয়াশা কাটিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার প্রত্যাবর্তনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এ ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য, আস্থা ও প্রত্যয়ের আবহ। সহকর্মী-কর্মচারীদের চোখেমুখে এখন একটাই প্রত্যাশা—স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও গতিশীলতার এক নতুন অধ্যায়।
ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণের অভাবে টেকেনি। প্রশাসনিক পর্যালোচনা শেষে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত এলে জেলা কার্যালয়ে শুরু হয় স্বস্তির সুর। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উন্নয়ন প্রকল্পের গতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও মাননিশ্চিতকরণে তিনি যে কঠোর অবস্থান নেন, সেটিই আবার দৃশ্যমান হবে মাঠপর্যায়ে।
এদিকে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি, শূন্য সহনশীলতার বার্তা-
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাচ্চু মিয়া সময় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত দিয়েছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আধুনিক মনিটরিং জোরদার, ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা এবং কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন—এসবকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অভিযোগ যে কেউ করতে পারেন, তবে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ কেবল হয়রানি। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের আমানত—এর অপচয় বা অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বক্তব্যে ফুটে ওঠে তার প্রশাসনিক দর্শন—জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়। মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি, প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিই হবে তার পথচলার ভিত্তি।
অভিজ্ঞতার আলোয় নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে দীর্ঘদিন উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে মাঠে কাজ করেছেন তিনি। স্থানীয় বাস্তবতা, অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সূক্ষ্ম দিকগুলো তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
সহকর্মীদের মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততা, বাস্তবায়নে শুদ্ধতা এবং প্রশাসনিক দৃঢ়তা—এই তিন সমন্বয়েই তিনি আলাদা। তার পূর্ববর্তী দায়িত্বকালেও জেলা এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশংসিত হয়েছিল বিভিন্ন মহলে।
আস্থার আবহ, উন্নয়নের প্রত্যাশা- এলজিইডির জেলা কার্যালয়ে এখন যেন নতুন উদ্যম। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন, বাচ্চু মিয়ার নেতৃত্বে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, প্রকল্প বাস্তবায়নে বাড়বে গতি, আর জনস্বার্থ সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হবে দৃঢ় মানদণ্ড।
জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ বাস্তবায়নই টেকসই অগ্রগতির চাবিকাঠি—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে তার প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই দেখছেন ‘নতুন সূচনা’ হিসেবে।
বদলির ঝড় থেমে গেছে; এখন সময় ফল দেখানোর। জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে তাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটাই প্রত্যাশা—স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা আর উন্নয়নের দৃঢ় অগ্রযাত্রা।
