রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বদলী ঠেকাতে ৩ কোটি টাকার ‘গেম’—নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুলের অবাধ ক্ষমতার রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অন্দরমহলে আজ এক নাম ঘুরছে হঠাৎই ঝড়ের মতো—নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম। কয়েক বছর ধরে সে শুধু পদে নয়, ক্ষমতায়ও যেন “অপরাজেয়” হয়ে উঠেছেন। সহকর্মীদের চায়ের টেবিলের কথায়—টেন্ডার বণ্টন, কমিশন আদায়, পোস্টিং–বদলী, প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ, সবকিছুই তার একক খেলার মাঠ।
নারী প্রতিমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় ৩,৫০০ কোটি টাকার প্রভাব
সূত্রের দাবি, সাজেদুল ইসলাম এক সাবেক নারী প্রতিমন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে ঢাকার ইএম শাখায় দখল করেছেন প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প।
টেন্ডার বণ্টন, অনুমোদন, কমিশন আদায়—সবকিছুতে তার ‘শেষ কথা’ ছিল।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—
ঢাকা ইএম বিভাগে কাজ করতে চাইলে সাজেদুলকে ম্যানেজ করা ছাড়া উপায় ছিল না। তার ক্ষমতা ছিল প্রায় অস্বাভাবিক—কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।
কিছু প্রকল্পে তিনি বেনামে ঠিকাদারি করেছেন—যা এখনও তদন্তাধীন।
বদলী আদেশও কার্যকর হয়নি—ঢাকায় রয়ে যাওয়ার রহস্য-
২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর গণপূর্তে ব্যাপক রদবদল হলেও সাজেদুল ইসলাম আশ্চর্যজনকভাবে ঢাকায় রয়ে যান।
সূত্রের দাবি— সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের সঙ্গে ‘বিশেষ যোগাযোগ’ বজায় রেখে তিনি বদলীর তালিকা থেকে নিজেকে বাঁচিয়েছেন।
মিডিয়ার অনুসন্ধান শুরু হতেই বদলী আদেশ আসে—১৪ অক্টোবর ২০২৫ তাকে পাবনায় বদলী করা হয়। কিন্তু সাজেদুল ইসলাম তা মানেননি।
একজন কর্মকর্তা বলেন—
সরকারি আদেশ ওনার কাছে কেবল কাগজের টুকরা।
এটি প্রশাসনিকভাবে গুরুতর—শুধু কাগজেই নয়, কার্যত রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি বিদ্রোহ। দালাল হাদী ও ৩ কোটি টাকার ডিল
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একজন মধ্যস্বত্বভোগী হাদীর সঙ্গে সাজেদুলের ৩ কোটি টাকার ‘মিশন’ হয়েছে। চুক্তি—বদলী বাতিল করা এবং ঢাকায় আগের মতো প্রভাবশালী অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
হাদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—“স্যার পাবনা যাবেন না, ঢাকাতেই রাখা হবে। ৩ কোটির কাজ আমরা করিয়ে দেব।
অফিস ভেতরে অনেকেই বলেন—হাদী দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার–কারচুপি, কমিশন বাণিজ্য, পোস্টিং–বদলী সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। তবে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো নেই।
ক্ষমতার আসল উৎস—রাজনৈতিক আশ্রয়?
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সাজেদুল ইসলাম এক সাবেক আওয়ামী লীগ এমপির সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে এত অস্বাভাবিক ক্ষমতা পেয়েছিলেন। কেউ কেউ বলছেন—এই সম্পর্কের কারণে কোনো স্তরে তাকে ‘ছোঁয়ার সাহস’ ছিল না।
অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের নেটওয়ার্ক-
অফিসার্স ক্লাব প্রকল্পে বিল দেওয়া হলেও আসবাবপত্র না পৌঁছানোর অভিযোগ।
ইএম গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে নিম্নমানের লিফট স্থাপন
ছাত্রলীগের কয়েকজনকে শাস্তি দিয়ে মিনিটের মধ্যে মুক্তি।
চার বছর ধরে একই পদে থাকা, উপদেষ্টা–হাদীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক—সবই তদন্তের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সূচক।
কেন জরুরি তদন্ত অপরিহার্য?
একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর হাতে ৩,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনক-
বদলী ঠেকাতে ৩ কোটি টাকার ডিল রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুতর ভাঙনের ইঙ্গিত।
সরকারি আদেশ অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ-
সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্বৃত্তচক্র তৈরি হতে পারে।
দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরে রেখেছে।

উল্লেখ্য যে, সরকারের দায়িত্ব—নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি, নাহলে সংশ্লিষ্টদের সম্মান রক্ষা।
সাধারণ কর্মচারীদের দাবি স্পষ্ট— দালাল সিন্ডিকেট ভাঙতেই হবে। আমাদের অনুসন্ধান চলছে—প্রকল্পের কাগজপত্র, অর্থ লেনদেনের রুট, মধ্যস্বত্বভোগী হাদীর ভূমিকা এবং পূর্বতন রাজনৈতিক প্রভাব সব যাচাই করা হচ্ছে।
চলবে…

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।