শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“বাগেরহাটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা,, বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই শোকের সাগর: একই পরিবারের ৯ জন পাশাপাশি কবরে, ‘আমার সব শেষ’—বেঁচে থাকা ভাইয়ের আর্তনাদ

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
মার্চ ১৩, ২০২৬ ৮:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিয়ের আনন্দে ভরা একটি পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তেই পরিণত হলো অসীম শোকে। মোংলা-খুলনা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ সদস্যকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
বিয়ের আনন্দ থেকে মৃত্যু মিছিল

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার (মিতু)-র সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমান (ছাব্বির)-এর।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে করে মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু পথেই ঘটে ভয়াবহ বিপর্যয়।
বাগেরহাটের মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন প্রাণ হারান। আহত একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একসঙ্গে নিভে গেল পরিবারের ৯টি প্রাণ- দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের সদস্যরা হলেন— বর আহাদুর রহমান, তাঁর বাবা আবদুর রাজ্জাক, ভাই আবদুল্লাহ সানি আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী), তাঁর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম (জনি)-এর স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল) এবং তাঁদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম।
নিহতদের মধ্যে আরও আছেন কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।

শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা- শুক্রবার ভোরে মরদেহগুলো মোংলার শেহালাবুনিয়ার ছাত্তার লেন এলাকায় বরের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চার নারীর মরদেহ রাখা হয় বাড়ির ভেতরে, আর বাকি পাঁচজনের মরদেহ রাখা হয় উপজেলা পরিষদ চত্বরে।

প্রতিবেশী নাসির খাঁন বলেন, একসাথে একই পরিবারের এতগুলো লাশ আমি জীবনে দেখিনি। এটা সহ্য করার মতো না।
নিহত আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠা মোংলাতেই। রাজ্জাক ভাই তাঁর মেয়ের বিয়েও কয়রায় দিয়েছিলেন। এবার ছেলের বিয়েও সেখানে হলো। কিন্তু দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল। তিনি জানান, আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে খাটিয়া এনে নিহতদের গোসল শেষে একে একে রাখা হয় খাটিয়ায়। সেই দৃশ্য দেখে উপস্থিত মানুষের চোখে অঝোরে নেমে আসে কান্না।

চোখের সামনে মৃত্যু দেখেও বেঁচে থাকা ভাই- দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন বরের বড় ভাই আশরাফুল রহমান জনি। তিনি মাইক্রোবাসের পেছনে মোটরসাইকেলে আসছিলেন। তাই চোখের সামনেই দেখতে পান ভয়াবহ দুর্ঘটনা। কিন্তু বেঁচে যাওয়াই যেন এখন তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা। স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের ৯ জনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি।

কাঁদতে কাঁদতে শুধু একটি কথাই বলতে পেরেছেন—
“আমার সব শেষ হয়ে গেছে… আমি একা হয়ে গেলাম।
এরপর আর কোনো কথা বলতে পারেননি জনি।
অন্যদিকে পরিবারের মা আঞ্জুমানয়ারা শোকে অসাড়, আর বেঁচে থাকা আরেক ভাই সাদ্দাম ক্ষণে ক্ষণে মুর্ছা যাচ্ছেন।

বিয়ের আনন্দে ভরা যে পরিবারটি নতুন স্বপ্ন নিয়ে ঘরে ফিরছিল, সেই পরিবার এখন পাশাপাশি ৯টি কবরের নিঃশব্দ আর্তনাদ ও শোকগাথা হয়ে রইল।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ