শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর কিশোরীর লাশ সরিষা ক্ষেতে — মাধবদীতে ধর্ষণ মামলার জেরে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

নরসিংদী প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৪:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর মাধবদী যেন এক বিভীষিকাময় রাতের সাক্ষী। বাবার হাত শক্ত করে ধরে খালার বাড়ির পথে হাঁটা কিশোরী আমেনা আক্তার (১৫) বুঝতেও পারেনি—সেই পথই হবে তার জীবনের শেষ যাত্রা। ধর্ষণের বিচার চাওয়ার ‘অপরাধে’ বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশিরভেজা হলুদ সরিষা ফুলের মাঝখানে পড়ে থাকা কিশোরীর লাশ স্থানীয়দের চোখে এনে দেয় শোক, ক্ষোভ আর আতঙ্কের ঢেউ।

শ্রমিক জীবনের সংগ্রাম, তারপর নির্মম পরিণতি-
বরিশালের বাসিন্দা আমেনা বাবার সঙ্গে মাধবদীর একটি টেক্সটাইল কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। জীবিকার তাগিদে তারা বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। স্বপ্ন ছিল—কষ্ট করে হলেও পরিবারকে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল নির্মম সহিংসতায়।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় যুবক নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা দীর্ঘদিন ধরে আমেনাকে উত্ত্যক্ত করত এবং বিয়ের জন্য চাপ দিত। প্রায় ১৫ দিন আগে নুরার নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক কারখানা থেকে ফেরার পথে তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হলেও বিচার চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।

শেষ রাতের আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না কোন ভাবেই।
নিহতের বাবা জানান, মেয়ের নিরাপত্তার জন্য বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি মেয়েকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় খালার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে বরইতলা এলাকায় পৌঁছতেই নুরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয় যুবক তাদের পথরোধ করে। মুহূর্তেই বাবার বুক থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যায় তারা। অসহায় বাবা শুধু চিৎকার করে মেয়েকে ডাকতে থাকেন। সারা রাত খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানান। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই আসে হৃদয়বিদারক খবর—সরিষা ক্ষেতে পড়ে আছে আমেনার নিথর দেহ।
মায়ের আর্তনাদ: “বিচার চেয়েছিলাম, তাই মেয়েকে হত্যা। নিহতের মা ফাহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নুরা বিয়ের জন্য চাপ দিত, মেয়ে রাজি হয়নি। ধর্ষণের বিচার চেয়েছিলাম বলেই তারা হুমকি দিচ্ছিল। আবার তুলে নিয়ে গিয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।

এদিকে মামলা, গ্রেপ্তার ও অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। তবে এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে এবাদুল্লাহ, আহম্মদ আলী, ইমরান দেওয়ান ও মো. আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধান অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা পলাতক রয়েছে।
মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। বর্তমানে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের। পাশাপাশি নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের।
হলুদ সরিষা ফুলের নরম সৌন্দর্যের মাঝেই রয়ে গেল এক কিশোরীর নিথর শরীর—আর ন্যায়বিচারের দাবিতে অসহায় পরিবারের আর্তনাদ। মাধবদীর মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন করছে—বিচার চাইতে গিয়ে আর কত প্রাণ ঝরবে?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।