প্রতীকী ছবি
জধানীর ব্যস্ত জনপদ বাসাবো–র পূর্ব নন্দীপাড়ায় গোপনে চলছে এক নামবিহীন মিষ্টির কারখানা—যেখানে মিষ্টির মিষ্টতা নয়, বরং ছড়িয়ে পড়ছে অস্বাস্থ্য, ভেজাল আর জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য বিপদের অশনিসংকেত। সরেজমিনে গিয়ে যে চিত্র মিলেছে, তা রীতিমতো শঙ্কাজনক।
অপরিচ্ছন্ন ঘরে মিষ্টি উৎপাদন, নেই ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি
কারখানার ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ—
মেঝেজুড়ে ময়লা ও আঠালো বর্জ্য
খোলা জায়গায় পড়ে থাকা কাঁচামাল
কর্মীদের শরীরে নেই কোনো স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক বা সুরক্ষা সরঞ্জাম
এই নোংরা পরিবেশেই তৈরি হচ্ছে রসগোল্লা, চমচমসহ নানা মিষ্টি—যা পরে যাচ্ছে স্থানীয় দোকান ও বাজারে।
দুধের আড়ালে ভেজাল ও ফরমালিনের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৌহিদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে কারখানাটি পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি—
*মানহীন ভেজাল দুধ ব্যবহার
*সন্দেহজনক কেমিক্যাল ও ফরমালিন মিশিয়ে উৎপাদন
*নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে ‘ব্র্যান্ডবিহীন’ মিষ্টি তৈরি
এতে প্রতিদিন অজান্তেই বিষাক্ত ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করছেন সাধারণ মানুষ। বিএসটিআই সনদ নেই, লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ
কারখানাটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই সামনে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) অনুমোদনের কাগজপত্র চাইলে তারা কোনো বৈধ সনদ বা লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।
খাদ্যপণ্য উৎপাদনে এমন অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে কারখানাটি চলছে—তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী: ‘এটা মিষ্টির কারখানা নয়, রোগের কারখানা’এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুদিন ধরেই গোপনে এই কারখানার কার্যক্রম চলছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো তদারকি বা অভিযান হয়নি।
তাদের দাবি—
*দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
*কারখানাটি সিলগালা
*দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: জনস্বাস্থ্যে বড় ঝুঁকি
খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল বলছে, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত মিষ্টি ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিংসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বিএসটিআই অনুমোদন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা শুধু নিয়ম নয়—জনস্বাস্থ্য রক্ষার অপরিহার্য শর্ত।
সময় এখন প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের।
একটি নামহীন কারখানার আড়ালে যদি প্রতিদিন মানুষের প্লেটে পৌঁছে যায় ভেজাল ও ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য—তবে তা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে প্রতারণা।
