মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৯ মাসে নিহত ৪০, রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ গেছে ৭৩ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিএনপির দলীয় মনোগ্রাম। গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭, রাজনৈতিক সংঘাতের তুলনায় মৃত্যু আড়াই গুণ বেশি: এইচআরএসএসের প্রতিবেদন।

বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে। এ সময়ে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৩ জন। আহত হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ হাজার ৪৭৩ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ জন।

রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনা। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৯৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন, আহত হয়েছেন ৪০১ জন। অর্থাৎ রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যার তুলনায় গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় প্রাণহানি প্রায় আড়াই গুণ।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করে এইচআরএসএস। সংস্থাটি ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং নিজেদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে বিএনপি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার মধ্যে ৯৩১টি ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪০ জন, আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩২ জন।

বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৩২১টি সংঘর্ষে প্রাণ গেছে ১১ জনের। আহত হয়েছেন ২ হাজার ১৯০ জন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ৯৩টি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৯ জন, আহত হয়েছেন ৫৪৫ জন।

রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতের ৮ জন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ জন এবং চরমপন্থি দলের ১ জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের রাজনৈতিক পরিচয় অন্য দল অথবা অজানা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে ৪০২ সহিংসতা, আহত ২ হাজার ৬২৩

প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতার পেছনে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, সংসদ নির্বাচন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা এবং বিভিন্ন দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘাতের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়িঘর, যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং চাঁদাবাজিকেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনাও উঠে এসেছে।

সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬২৩ জন।

২৭০টির বেশি মামলা, গ্রেপ্তার ৬৩ হাজারেরও বেশি

রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আটক ও মামলার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

পাশাপাশি সন্ত্রাস, নাশকতা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানে ৬৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক নির্যাতন, সভা-সমাবেশে বাধা

নয় মাসে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২০ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ সময়ে ৫৮টি সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৩৯ জন এবং আটক করা হয়েছে ৪৬ জনকে।

কারাগারে ৯৫ জনের মৃত্যু, হেফাজতে প্রাণহানি ১৭

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম নয় মাসে কারাগারে ৯৫ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪০ জন কয়েদি এবং ৫৫ জন হাজতি।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলি এবং কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, সীমান্তে প্রাণহানি

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ৬২ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা এবং ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ৪৩টি হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২৪টি সহিংসতার ঘটনায় একজন নিহত, ছয়জন আহত, ছয়জন গুলিবিদ্ধ এবং ৮৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্রমিক নির্যাতন ও নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা

শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৩ জন। একই সময়ে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচনী সংঘাত, মব ও গণপিটুনি, নারী-শিশু ও সাংবাদিক নির্যাতন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব সমস্যার সমাধান করা না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।