শুক্রবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদায়ের আগে ‘গোপন চুক্তি’ প্রশ্নে সতর্কবার্তা: অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখার আহ্বান দেবপ্রিয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ ৭:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কথা বলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ইঙ্গিত দিলেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার ভাষায়—বিদেশের সঙ্গে হওয়া জানা-অজানা চুক্তিগুলো এখনই গভীরভাবে পর্যালোচনা না করলে ভবিষ্যতে বড় দায়ের মুখে পড়তে পারে নতুন সরকার।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
চুক্তির ভেতরের দায়–দেনা খুঁজে দেখার তাগিদ
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের আগে বিভিন্ন ক্রয় ও বৈদেশিক চুক্তি করেছে—যেগুলোর সব তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আরও নানা দেশের সঙ্গে হওয়া এসব চুক্তির নথি বিশ্লেষণ করে দায়–দেনার প্রকৃত চিত্র বের করা জরুরি।
তার মতে, নতুন সরকার ঠিক কী ধরনের আর্থিক দায় নিয়ে পথচলা শুরু করছে, তা বোঝার জন্য এই ময়নাতদন্ত’ অপরিহার্য।
ঋণের বোঝা আরও ভারী? অর্থনীতিবিদটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার যে অবস্থায় দেশের ঋণ পরিস্থিতি পেয়েছিল, বিদায়ের সময় তা আরও দুর্বল হয়ে গেছে। এর পেছনে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, চলতি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সমন্বয়হীনতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, নতুন সরকার আগের তুলনায় বেশি নাজুক ঋণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে—যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ‘১৮০ দিনের ধৈর্য’ ও কৃচ্ছতার পরামর্শ
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, নতুন সরকারকে দ্রুত জনপ্রিয় সিদ্ধান্তে না গিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। অন্তত ১৮০ দিনের একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন—এই অর্থবছরে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে পরিস্থিতি বোঝা বেশি জরুরি।
তিনি সতর্ক করেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংযম ও কৃচ্ছতা না দেখালে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে।
সংস্কার কৌশল না থাকাকে ‘বড় ব্যর্থতা’
অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো সুস্পষ্ট কৌশলপত্র না থাকা। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনামন্ত্রীর একটি প্রতিবেদন তৈরির ঘোষণা দিয়েই বিদায় নেওয়াকে তিনি অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেন।
বাজেট হবে নতুন সরকারের প্রথম পরীক্ষা
অনুষ্ঠানে আয়োজক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে বাস্তবসম্মতভাবে বাজেট সংশোধন এবং আগামী অর্থবছরের বাজেটকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
এ সময় সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানও বক্তব্য দেন। তৌফিকুল ইসলাম খান সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে—কারণ আর্থিক সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, অর্থনীতিবিদদের বার্তা পরিষ্কার—নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নয়; বরং অতীতের চুক্তি ও দায়–দেনার প্রকৃত চিত্র বুঝে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়াই হবে টেকসই অর্থনীতির প্রথম ধাপ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।