শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদায় অনুষ্ঠানের আড়ালে ভয়াবহ রহস্য! নিখোঁজ ছাত্রীকে স্কুলের তালাবদ্ধ কক্ষে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার

এস এম বাদল
এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক শিহরণ জাগানো ঘটনার জন্ম দিয়েছে একটি সাধারণ স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠান। আনন্দ আর বিদায়ের আবেগ যেখানে থাকার কথা, সেখানে লুকিয়ে ছিল এক অজানা আতঙ্ক, এক অন্ধকার রহস্য।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ছএগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, বারুইপাড়া ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের মুস্তাকের মেয়ে জিম খাতুন। রঙিন স্বপ্ন আর কিশোরী উচ্ছ্বাস নিয়ে যাওয়া সেই যাত্রা যেন হঠাৎই থমকে যায় অদৃশ্য কোনো অন্ধকারে।

এদিকে অনুষ্ঠান শেষে সবাই বাড়ি ফিরলেও জিম আর ফেরেনি। সময় গড়াতে থাকে। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা—তারপর রাত। প্রিয় মুখটি না ফিরলে যেমন অস্থির হয়ে ওঠে একটি পরিবার, ঠিক তেমনই আতঙ্কে ছুটে বেড়াতে থাকে জিমের স্বজনরা। গ্রামের পথে পথে, সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও যখন কোনো সন্ধান মেলে না, তখন রাত ৮টার দিকে তারা ছুটে যায় সেই বিদ্যালয়ে—শেষ আশ্রয়, শেষ আশা নিয়ে।

বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়—মেয়েটি কি এখনও স্কুলে আছে? কিন্তু তার উত্তর ছিল ঠান্ডা, নির্লিপ্ত—কেউ নেই, চাবি দেওয়া যাবে না।
কিন্তু কেন এই অস্বীকৃতি?
সন্দেহ আর উৎকণ্ঠা তখন এক হয়ে যায়। গ্রামবাসীর জোরালো দাবির পরও চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে সবাই।
তারপর—এক ভয়াবহ দৃশ্য!
বিদ্যালয়ের তিন তলার একটি কক্ষে পড়ে আছে জিম—অচেতন, মুখে টেপ লাগানো, নিথর দেহ যেন কোনো নিষ্ঠুর ঘটনার নীরব সাক্ষী।

সেই মুহূর্তে যেন থমকে যায় সময়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলে পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক চিকিৎসার পর জিমকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

মিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল আজিজ ঘটনাস্থলে এসে পরিবারকে আশ্বাস দেন—মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলেই শুরু হবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা। এখন প্রশ্ন একটাই—একটি স্কুল, যেখানে নিরাপত্তার কথা ভাবা হয় সবচেয়ে বেশি, সেই জায়গাতেই কীভাবে ঘটল এমন রহস্যময় ও ভয়াবহ ঘটনা? জিমের নিথর চোখের ভাষা এখনো কথা বলে—সত্যটা কি সামনে আসবে? নাকি থেকে যাবে আরেকটি অন্ধকার গল্প হয়ে?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।