আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুখবর যেন দেশের ভোক্তাদের জন্য দুঃসংবাদে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও দেশের বাজারে উল্টো বাড়ছে দাম—আর এর পেছনে লুকিয়ে আছে রহস্যজনক সরবরাহ সংকট, যা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে সকাল-বিকেলেই বদলে যাচ্ছে দামের হিসাব। রমজানের মধ্যেই সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম লিটারে বেড়েছে ১৩ থেকে ১৬ টাকা। অথচ বাস্তবতা বলছে ভিন্ন গল্প—দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বাজার পরিস্থিতি।
চট্টগ্রাম বন্দরে এখন ভোজ্যতেল বোঝাই সাতটি জাহাজ ভিড়েছে। এসব জাহাজে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার টন তেল, যা খুব শিগগিরই খালাস হওয়ার কথা। এর আগে গত সপ্তাহেই দেশে মজুত ছিল আরও ২ লাখ ৩৬ হাজার টনের বেশি তেল। সব মিলিয়ে সরবরাহে ঘাটতির যুক্তি অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির খাতুনগঞ্জ পরিদর্শন শেষে স্বীকার করেছেন বাজারে অস্বাভাবিক দামের ব্যবধানের বিষয়টি। তিনি জানিয়েছেন, এর প্রকৃত কারণ খুঁজতে গঠন করা হবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি।
এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম এক মাসে প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। কিন্তু সেই প্রভাব দেশের বাজারে নেই—বরং উল্টো চিত্র।
খাতুনগঞ্জে গত এক সপ্তাহে মণপ্রতি তেলের দাম বেড়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। খুচরা বাজারে এর প্রভাব আরও তীব্র—চট্টগ্রামে খোলা সয়াবিন তেল কেজিতে ২০০ টাকার ঘর ছাড়িয়ে গেছে, আর পাম অয়েল পৌঁছেছে ১৭০ টাকার ওপরে।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে দোষারোপের পালা। কেউ বলছেন মিলগেট থেকে সরবরাহ কম, আবার কেউ দাবি করছেন সরবরাহ স্বাভাবিক। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিভ্রান্ত ভোক্তারা।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মনে করছে, এটি পরিকল্পিত সংকট। সংগঠনটির মতে, বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে—যার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
ঈদের আগে এমন পরিস্থিতিতে ভোজ্যতেলের বাজার যেন এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণে—যেখানে জাহাজভর্তি তেল থাকলেও ভোক্তার থালা রক্ষা পাচ্ছে না দামের আগুন থেকে।
