বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিসিএসে চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণ ৫৭ জন বাদ, মেধা তালিকায় প্রথম হয়েও গেজেটে নেই নাম

স্টাফ রিপোর্টার
অক্টোবর ১, ২০২৬ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পিএসসির সুপারিশের পরও নিয়োগ নেই; ভেরিফিকেশন নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগের ব্যাখ্যা চান বঞ্চিতরা। ফাইল ছবি

কয়েক লাখ প্রার্থীর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—একেকটি ধাপ পেরিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ। কেউ আবার নিজ নিজ বিষয়ে মেধা তালিকায় ছিলেন শীর্ষে। এত কিছুর পরও কাঙ্ক্ষিত নিয়োগের গেজেটে নেই তাঁদের নাম। ৪৯তম বিসিএসের (বিশেষ) এমন ৫৭ প্রার্থীর স্বপ্ন চুরমার হয়েছে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর।

চূড়ান্ত ফলে শিক্ষা ক্যাডারে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল পিএসসি। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গতকাল বুধবারের প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ পেয়েছেন ৬১১ জন। অর্থাৎ পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পরও ৫৭ জন শেষ পর্যন্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন।

নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, তাঁদের বেশির ভাগই গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের কারণে বাদ পড়েছেন। তবে কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, কিংবা কেন তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হলো না—এ বিষয়ে তাঁদের কাছে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। ফলে বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সব ধাপ পেরিয়ে নিয়োগের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বাদ পড়ার ঘটনায় তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।

মেধা তালিকায় প্রথম, তবুও গেজেটে নেই

৪৯তম বিসিএসে ইতিহাস বিষয়ে মেধাক্রমে প্রথম হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা। পিএসসির সুপারিশের পর চূড়ান্ত গেজেটে নিজের নাম না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাঁকে গেজেট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ বিষয়ে প্রথম হয়েও নিয়োগ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁর দাবি, জুলাইয়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ইংরেজি বিষয়ে মেধাক্রমে ১৪তম হয়েছিলেন বুশরা জাহান। তাঁর ভাষ্য, গেজেটে ১৩ ও ১৫ নম্বর মেধাক্রমের প্রার্থীর নাম থাকলেও তাঁর নাম নেই। সামাজিক মাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকার পরও কেন তাঁকে নিয়োগবঞ্চিত করা হলো।

আরেক প্রার্থী রেদওয়ান আহমেদ তাহমিদ লিখেছেন, দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।

ভেরিফিকেশন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন

বিসিএসে পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পর চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রচলিত ব্যবস্থা নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণে গঠিত সংস্কার কমিশন এ বিষয়ে ভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

কমিশনের প্রতিবেদনের ৯.২ অনুচ্ছেদে বিসিএসে কৃতকার্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কি না—মূলত সেই তথ্য পুলিশের কাছে চাওয়ার প্রস্তাব করা হয়। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছ থেকেও তথ্য নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

সংস্কার কমিশন আরও বলেছিল, পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে কোনো কর্মকর্তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার প্রথা বাতিল করা উচিত। কমিশনের যুক্তি ছিল, এ ধরনের প্রক্রিয়া প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এদিকে বিদ্যমান বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১-এর আলোকে প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত অযোগ্যতা বা অপরাধ-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনার সুযোগ থাকলেও শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ না থাকলে শুধু পুলিশ বা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে নিয়োগবঞ্চিত করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

আগেও উঠেছে নিয়োগবঞ্চনার অভিযোগ

এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনকে নিয়োগবঞ্চিত করার অভিযোগ ওঠে। পরে প্রার্থীদের বিক্ষোভের মুখে তাঁদের অনেককে নিয়োগ দেয় সরকার।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ও পিএসসির সুপারিশের পর নিয়োগ না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ৩৮তম থেকে ৪২তম বিসিএস পর্যন্ত অন্তত ২৩৯ প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল পিএসসি; কিন্তু তাঁরা কেউ নিয়োগ পাননি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন।

বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সাধারণত প্রার্থীদের পরিবারে নামে স্বস্তি। দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, কোচিং, পরীক্ষা ও অপেক্ষার পর আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের মুহূর্ত। কিন্তু ৪৯তম বিসিএসের ৫৭ প্রার্থীর ক্ষেত্রে পিএসসির সুপারিশের পরও শেষ ধাপে এসে সেই আনন্দ পরিণত হয়েছে বিষাদে।

নিয়োগবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থী এখন জানতে চান—কোন অভিযোগে তাঁদের বাদ দেওয়া হলো, কার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হলো এবং সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নিজেদের বক্তব্য জানানোর কোনো সুযোগ তাঁরা পাবেন কি না।

তাঁদের দাবি, বিসিএসের মতো দীর্ঘ ও কঠিন প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার সব ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে নিয়োগ বাতিল হলে এর কারণ স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।