লাল-সবুজের জার্সিতে যেন আগুন জ্বালিয়ে নামা একদল অদম্য কিশোরী। চোখে আত্মবিশ্বাস, পায়ে ঝড়, আর মনে শুধুই জয়ের তৃষ্ণা। নেপালের পোখরায় সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচেই ভুটানকে একপ্রকার বিধ্বস্ত করে দিল বাংলাদেশের বাঘিনী মেয়েরা। স্কোরলাইনে লেখা হলো রীতিমতো অবিশ্বাস্য এক গল্প—১২-০।
এটা শুধু একটি জয় নয়, এটা ছিল শক্তির ঘোষণা, আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ, আর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বজ্রনিনাদ।
ম্যাচের শুরু থেকেই পোখারা স্টেডিয়ামে আক্রমণের ঢেউ তুলেছিল বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা ভুটান। তবে কাঙ্ক্ষিত প্রথম গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ২৮ মিনিট। আর গোলটা হতেই যেন বাঁধ ভাঙা জোয়ার। মামুনি চাকমার পায়ে আসে কাঙ্ক্ষিত সূচনা—এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের যে তাণ্ডব শুরু হয়, তা থামার কোনো লক্ষণ ছিল না। তৃষ্ণা রানী, মুনকি আক্তার—একজনের পর একজন ভুটানের জালে বল পাঠিয়ে জানান দিলেন, এই মঞ্চে রাজত্ব করবে বাংলাদেশই। বিরতিতে যাওয়ার আগেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। কিন্তু এটা ছিল কেবল ট্রেলার।
বিরতির পর মাঠে নামল আরও ভয়ংকর এক বাংলাদেশ। যেন ক্ষুধার্ত বাঘিনীদের থামানোর আর কোনো উপায় নেই। তৃষ্ণা রানী পূর্ণ করলেন হ্যাটট্রিক। এরপর শুরু হলো মুনকি-আলপি শো। ডান-বাম, সামনে-পেছন—ভুটানের রক্ষণভাগ পুরোপুরি এলোমেলো।
মুনকি আক্তার একাই করলেন চার গোল—একজন স্ট্রাইকার কীভাবে ম্যাচ শাসন করতে পারে, তার জীবন্ত উদাহরণ। আলপি আক্তার হ্যাটট্রিক করে বুঝিয়ে দিলেন, এই দল শুধু প্রতিভাবান নয়, নিষ্ঠুরভাবেও কার্যকর। শেষদিকে অর্পিতা বিশ্বাসের গোল যেন এই জয়মালার আরেকটি উজ্জ্বল রত্ন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল ১২-০—একটি সংখ্যা নয়, একটি বার্তা।
এই জয় শুধু ভুটানের বিপক্ষে নয়, এটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি প্রতিপক্ষের জন্য সতর্ক সংকেত। বাংলাদেশের বাঘিনী মেয়েরা এসেছে চ্যাম্পিয়ন হয়েই থাকতে।
এখন সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। কিন্তু এই ফর্ম, এই ক্ষুধা, এই আগুন নিয়ে নামলে—স্বপ্ন দেখতে দোষ কী?
লাল-সবুজের এই সাহসী কন্যারা শুধু ম্যাচ জিতছে না—
তারা জিতছে কোটি বাঙালির হৃদয় ❤️🇧🇩
