বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ভুয়া প্রকল্পে কোটি টাকা লোপাট,গণপূর্ত প্রকৌশলী আলমগীর খানের পকেটে রাষ্ট্রীয় অর্থ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গণপূর্ত অধিদপ্তরে (পিডব্লিউডি) চাকরি মানেই অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক—এ অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য বলছে, এটি আর নিছক জনশ্রুতি নয়; বরং নথি, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও অডিট রিপোর্টে প্রমাণিত এক ভয়ংকর দুর্নীতির কাঠামো।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘নিরাপত্তা’র নামে ভুয়া প্রকল্প–

ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খান–এর বিরুদ্ধে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় তথাকথিত নিরাপত্তা জোরদারের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ–৬, ঢাকা-এর আওতায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

প্রকল্প কাগজে যা ছিল : ৩টি ১৬-চ্যানেল ডিভিআর, ১২টি পিটিজেড (PTZ) সিসি ক্যামেরা, ১০টি ডে-নাইট ভিশন ক্যামেরা, ৩টি ডিসপ্লে মনিটরসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি।বাস্তবে যা পাওয়া গেছে: বহু ক্যামেরা অচল, কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনুপযোগী, কোথাও কোথাও ক্যামেরা বসানোই হয়নি। অথচ এসব ঘাটতি সত্ত্বেও প্রকল্পটি “সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে” দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ১ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সরকারি আর্থিক বিধিমালা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে।পিপিআর লঙ্ঘন: মাত্র ২ দিনে ৩ কার্যাদেশ– নথি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর—

স্মারক নং ৩৫০২ (১৪ জুন ২০১৬), স্মারক নং ৩৫০৭ ও ৩৫০৮ (১৫ জুন ২০১৬) এই তিনটি পত্রের মাধ্যমে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে একই ঠিকাদারকে তিনটি কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর)–এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে প্রতিযোগিতা নষ্ট হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে বেআইনিভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের দাবি, এসব কার্যাদেশ অনুমোদন ও বিল ছাড়ের পেছনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও নির্দেশনা ছিল।

অডিট রিপোর্টেও ধরা পড়েছে অনিয়ম—তবুও কেন নীরবতা–

জানা গেছে, ২০১৬–১৭ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে এসব অনিয়ম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে— এত বড় দুর্নীতির পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা কীভাবে বহাল তবিয়তে আছেন?এই প্রশ্নই এখন পরিণত হয়েছে রহস্যে। সম্পদের পাহাড়, বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ গুরুতর। একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থ দিয়ে মো. আলমগীর খান— ঢাকাসহ আশপাশে একাধিক বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট ক্রয় করেছেন। এছাড়া অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সূত্রগুলো বলছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম ঢাকা জোন দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর জবাবদিহির বাইরে থেকে গেছেন কিছু কর্মকর্তা।

ইতোপূর্বে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে গণমাধ্যম কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন আলমগীর খান।অভিযোগ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খান বলেন— আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে পরিণাম হবে ভয়াবহ। আমি প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার আদর্শে রাজনীতি করি। কাউকে ভয় পাই না। বহু সাংবাদিককে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছি, জেলে পাঠিয়েছি। তোর পরিণতিও তাই হবে। এই বক্তব্য সাংবাদিক মহলে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

টিআইবি যা বলছে : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন— সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করা হলে সাধারণ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হন। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া বা ভুয়া প্রকল্প দেখানো—এসবই সরাসরি দুর্নীতি।

শুধু প্রশ্ন রয়ে গেছে, অডিট রিপোর্ট থাকার পরও ব্যবস্থা নেই কেন? হুমকি দেওয়া একজন কর্মকর্তা কীভাবে এখনও ক্ষমতায়? দুদক কবে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে, এমন প্রশ্ন দানা বেঁধেছে জনমনে। রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাটের এই অভিযোগ কি তদন্তের আলো দেখবে, নাকি সবকিছু আবারও চাপা পড়ে যাবে?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ