মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভুল প্রশ্নে এক ঘণ্টা অন্ধকার, স্বপ্নভাঙা পরীক্ষার্থীদের আর্তনাদ—কুষ্টিয়ায় বহিষ্কার কেন্দ্র সচিব ও পরিদর্শকরা

এস এম বাদল
এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পরীক্ষার হলে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকার কথা ছিল। অথচ সেই স্বপ্নই যেন হোঁচট খেল এক ভয়াবহ ভুলে। কুষ্টিয়া-র দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার প্রথম দিনেই ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা—ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে দিশেহারা ১৭ শিক্ষার্থী, আর তাদের চোখে ভেসে উঠল অনিশ্চয়তার ছায়া।

বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ওই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র। শুরুতে কেউ বুঝতে না পারলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুল ধরা পড়ে। শিক্ষার্থীরা কক্ষ পরিদর্শকদের বিষয়টি জানিয়ে অনুরোধ করে প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের। কিন্তু অভিযোগ, তাদের উদ্বেগকে উপেক্ষা করে বরং ধমক দিয়ে পুরনো প্রশ্নেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।

এদিকে সময় গড়িয়ে যায়—একটি মূল্যবান ঘণ্টা যেন হারিয়ে যায় নিঃশব্দে। অবশেষে প্রায় এক ঘণ্টা পর সঠিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হলেও, ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পেয়ে আরও চাপে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষে তাদের কণ্ঠে ঝরে পড়ে ক্ষোভ আর হতাশা, যা ছড়িয়ে পড়ে অভিভাবকদের মাঝেও।

জানা যায়, কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম এবং ভুরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুন। ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়ার ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়েই এখন তীব্র সমালোচনা।

এ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত কেন্দ্রে ছুটে আসেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ। তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। পরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী এবং দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী ১৭ শিক্ষার্থীই নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল এন্ড কলেজ-এর শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে চরম অবিচার। একটি পরীক্ষায় প্রতিটি মিনিটই অমূল্য। এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ার পর মাত্র আধা ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়—এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী ঘটনাটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অসাবধানতাবশত এই ভুল হয়েছে। তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নিয়েছেন।

ইউএনও অনিন্দ্য গুহ বলেন, পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর সংশ্লিষ্ট বোর্ডে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

স্বপ্ন দেখার দিনে এমন বিভ্রান্তি—শিক্ষার্থীদের মনে রেখে গেছে গভীর দাগ। পরীক্ষার হলের সেই এক ঘণ্টা, হয়তো তাদের জীবনের অনেকটা পথেই দীর্ঘ ছায়া হয়ে থাকবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।