সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীকে মঙ্গলবার ভোরে ধানমন্ডি থেকে আটক করে ডিবি (ছবি-সংগৃহীত)
রাজধানীর ঘুমন্ত ভোরে, যখন শহর এখনো আলো-আঁধারের মায়াজালে বন্দী—ঠিক তখনই নীরব এক অভিযানে ইতিহাসের এক আলোচিত অধ্যায়ের সূচনা। সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, যিনি একসময় সংসদের আসনে ছিলেন দৃপ্ত ও প্রভাবশালী—আজ তিনি আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর অপেক্ষায়।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টা। ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি নিরিবিলি বাসা। চারপাশে তখনো নিস্তব্ধতা, কিন্তু সেই নীরবতার বুক চিরে হাজির হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দল। দীর্ঘ আত্মগোপনের অবসান ঘটে ঠিক সেখানেই। আত্মীয়ের বাসা থেকে তাঁকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ—এক নাটকীয় মুহূর্তে যেন বাস্তবতা ছাপিয়ে যায় কল্পকাহিনীকেও।
ঢাকার লালবাগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে দায়ের হওয়া হত্যা চেষ্টা ও ভাঙচুরের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অভিযোগের ভার যেন এক অদৃশ্য ঝড় হয়ে ঘিরে ধরেছে তাঁকে—যেখানে অতীতের ক্ষমতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুধু একটি নয়—মোট ৬টি মামলার তথ্য উঠে এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কিছু মামলার তদন্ত শেষ, আবার কিছু এখনো বিচারপথের অন্ধকার গলিতে হাঁটছে।
আইনের দরজায় এখন কড়া নাড়ছে এক সময়ের প্রভাবশালী এই নাম। আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলছে—আর জনমনে তৈরি হচ্ছে কৌতূহল, শঙ্কা আর অজানা এক উত্তেজনা। এই গল্প শুধু গ্রেপ্তারের নয়—এ যেন ক্ষমতা, পতন আর সময়ের নির্মম বাস্তবতার এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যান।
