শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ময়মনসিংহে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ তলায় শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডে রোগিরা আতঙ্কিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১৭, ২০২৬ ১০:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ৯ তলা নতুন ভবনের ৬ তলায় শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শনিবার বিকেলে লাগা এই আগুনে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্কিত হয়ে রোগীদের হুড়োহুড়িতে হাসপাতালে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় ৪৫ মিনিট পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে নয়তলা ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া পুরো তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৯টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যম কে জানান, ছয়তলায় রোগীদের আসবাবপত্র রাখার স্টোর রুম থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুন লাগার পরপরই হাসপাতালের ভেতর ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। জীবন বাঁচাতে অসুস্থ শিশুদের কোলে নিয়ে স্বজনদের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার দৃশ্য দেখা যায়।

মো. রহমত আলী তার ২ বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। তিনি বলেন, হঠাৎ দেখি চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গেছে। আগুনের নাম শুনেই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে অক্সিজেন মাস্ক ছাড়াই দৌড়ে নিচে নেমে আসি। সিঁড়িতে মানুষের চাপে আমার বাচ্চার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

হাসনা বেগম তার নাতনিকে নিয়ে হৃদরোগ বিভাগে ছিলেন। আতঙ্কের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ধোঁয়ার কারণে উপরে উঠতে পারছিলাম না, আবার নামতেও পারছিলাম না। কান্নাকাটি আর চিৎকার ছাড়া কিছু করার ছিল না। পরে কয়েকজন মিলে আমাদের নামিয়ে আনে।

আব্দুল লতিফ নামে হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষমাণ রোগীর স্বজন বলেন, আগুন লাগার পর ইমারজেন্সি অনেক রোগীকে তাদের স্বজনরা ভয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেছেন। চারদিকে শুধু চিৎকার আর মানুষের ছোটাছুটি ছিল।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ছয়তলায় মূলত শিশু ওয়ার্ড। আগুন লাগার পরপরই শিশু, হৃদরোগ ও অন্যান্য বিভাগের সব রোগীদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। আল্লাহর রহমতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রেখে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ