রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মরু আকাশে আগুনের প্রেম—সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বজ্রাঘাত, রণক্ষেত্রে রক্তাক্ত ১২ সেনা

অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ২৮, ২০২৬ ৩:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছে টহল দিচ্ছেন একজন সেনাসদস্য (ছবি- দ্য নিউ আরব)

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত বালুকাবেলায় যেন আরেক দফা অগ্নিঝরা অধ্যায় লিখলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি—যেখানে নীরবতা ভাঙলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের দহনময় ছোঁয়ায়। সেই আগুনঝরা হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা, যাদের মধ্যে দু’জন এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুধু একটি আঘাত নয়—এ যেন দীর্ঘদিনের উত্তেজনার জ্বলন্ত প্রতিশোধ। আকাশে প্রতিরক্ষার সব জাল ছিন্ন করে হামলাটি মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক বড় ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উঠে এসেছে আরেক বেদনাদায়ক খবর—মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত দুটি কেসি-১৩৫ এরিয়াল রিফুয়েলিং বিমান। যেন যুদ্ধ শুধু মাটিতেই নয়, আকাশেও তার নির্মম ছাপ রেখে গেছে।

আবার পুরো সংঘাতজুড়ে ইরান যেন এক অবিরাম ঝড়—ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিশাল ভাণ্ডার দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে চালিয়ে যাচ্ছে একের পর এক আঘাত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বাধ্য হয়েছে হাজার হাজার সেনাকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে—কেউ কেউ পৌঁছে গেছে ইউরোপের দূর প্রান্তেও।

অন্যদিকে, আরেকটি সূত্র জানিয়েছে—এই হামলায় অন্তত একটি সামরিক বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন আহত সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩—যা এই সংঘাতের ভয়াবহতার নীরব সাক্ষী। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর ঘাঁটিতে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ—যেন আগুন আর ধোঁয়ার প্রেমে মিশে যায় রাতের আকাশ।

এদিকে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলে দুটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তেলসমৃদ্ধ এই অঞ্চল বরাবরই ইরানের নিশানায়—যেন প্রতিটি আঘাতের পেছনে লুকিয়ে আছে অর্থনীতি ও শক্তির লড়াই।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধের সূচনা। তার জবাবে ইরান ঘোষণা দেয় হরমুজ প্রণালি বন্ধের—যার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বজুড়ে। মরুর বুকে এই সংঘাত এখন আর শুধু যুদ্ধ নয়—এ যেন প্রতিশোধ, শক্তি আর অদম্য আগুনের এক আবেগঘন কাহিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।