প্রথমে গুলিবিদ্ধ মোতালেব শিকদার তারপর (ডানে) ডি.কে শামীম ওরফে ঢাকাইয়া শামীম (সবশেষে) ও তার সহযোগী মাহাদিন। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিকশক্তির খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মোতালেব শিকদারকে গুলির ঘটনায় ডি.কে শামীম ওরফে ঢাকাইয়া শামীম ও তার সহযোগী মাহাদিনকে আটক করেছে র্যাব-৬। গতকাল শুক্রবার রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, মাদক ব্যবসা ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে এনসিপির শ্রমিক নেতাকে গুলি করা হয়। শামীম নিজে মোতালেব শিকদারকে গুলি করে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
আটক ঢাকাইয়া শামীম (৩২) নগরীর গোবরচাকা এলাকার শামসুল হকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাতটি মামলা রয়েছে। মাহাদিনও (২১) একই এলাকার মৃত শেখ ইব্রাহিমের ছেলে। গুলির সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম জানান, গত ২২ ডিসেম্বর মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার আল আকসা মসজিদ রোডের মুক্তা হাউজ নামের এক বাড়ির মধ্যে মোতালেব শিকদারকে গুলি করা হয়। বাসাটি যুবশক্তি নেত্রী মোসা. তনিমা তন্বী ভাড়া নিয়েছিলেন। ঘটনার পর তন্বীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সন্দেহভাজন আসামি মো. আরিফকে আটক করে কেএমপিতে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল শনিবার রাতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া শামীম ও মাহাদিনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামীম ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং তিনি নিজেই মোতালেব সিকদারকে সরাসরি মাথায় গুলি করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
র্যাবের উপ-অধিনায়ক জানান, আগের রাতে ওই বাসায় তন্বী, মোতালেব সিকদার, আরিফ, ইফতি, তন্বীর স্বামী তানভীর, তন্বীর বন্ধু ইমরান এবং ইফতির চাচাতো ভাই ছিল।
শামীম জানিয়েছেন, ওই বাসায় পূর্ব থেকে মাদকের ব্যবসা ও মাদক সরবরাহ করা হতো। মাদক আনতে ২২ ডিসেম্বর সকাল ৭টায় শামীম তার সহযোগীদের নিয়ে ওই বাসায় যায়। শামীম মোতালেবের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের চেষ্টা করে। মাদক না পেয়ে আক্রোশের বসে তার সঙ্গে থাকা অস্ত্র দিয়ে মোতালেব সিকদারের মাথায় গুলি করে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জন আটক হয়েছেন। জড়িত অন্যদের এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম।
