রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজউকের গুলশান এস্টেটে ‘অদৃশ্য তন্ত্র’: লিটন সরকার কি আইনের ঊর্ধ্বে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার প্রতীক হওয়ার কথা রাজউক—তবে আজ কি সেই রাজউক এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষমতার খেলাধুলার গৃহে পরিণত হয়েছে?
ফলোআপ অনুসন্ধান প্রকাশ করছে, গুলশান এস্টেট ও ভূমি-৩ শাখার উপ-পরিচালক মো. লিটন সরকার (আইডি: ১৭১৪৯) যেন নিজের ছোট্ট রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন—আইন, নীতি, স্বাভাবিক প্রশাসনিক নিয়ম, সবকিছু ধুলোয় মিশে গেছে তার ‘একক কর্তৃত্ব’ নামের খেলায়।

একক ক্ষমতা আর অঘোষিত সিন্ডিকেট-
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লিটন সরকার জমি বরাদ্দ, ইজারা ও নিলাম, ফাইল হস্তান্তর—সবকিছু নিজের whims-এ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে এক অঘোষিত ‘কন্ট্রাক্ট সিন্ডিকেট’, যা মূলত রাজধানীর জমি লেনদেনকে জিম্মি করেছে। আজ রাজউকে জমি চাইলে আইন নয়, আগে লিটনের দরজা চিনতে হয়।
কোটি কোটি টাকার লেনদেন আর রাজনৈতিক আশ্রয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, সাবেক ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিত নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সংযোগের মাধ্যমে লিটন সরকার নিজের অবস্থানকে অত্যাবশ্যকীয় করেছেন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জমি ও পরিত্যক্ত ভবন নিয়ে গোপন রেজিস্ট্রেশন, ফাইল ‘ম্যানেজ’ এবং দখল বৈধকরণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন সম্ভব হয়েছে। বিনিময়ে নিশ্চিত রাজনৈতিক আশ্রয়—যা তাকে প্রায় অস্পর্শ্য করে তুলেছে। অফিসে ‘ব্যক্তি বন্দনা’
গুলশান এস্টেট শাখায় নিয়ম নয়, চলছে ব্যক্তিগত ক্ষমতার রাজত্ব। সাধারণ নাগরিকরা ফাইল মাসের পর মাস আটকে থাকার, অকারণে হয়রানি ও মনগড়া নোটিশের শিকার হচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে শাস্তি—বদলি, নিন্দা, ছড়ানো দুর্নাম।

রাজউকের ভেতরে এখন নির্যাতনের সংস্কৃতি, যা সাধারণ মানুষ ও স্বচ্ছ প্রশাসনকে উভয়কেই ধ্বংস করছে।
বিতর্কিত প্লট, রহস্যজনক ফাইল জট-
গুলশান এলাকার কয়েকটি মূল্যবান প্লট ও পরিত্যক্ত বাড়ি নিয়ে মারাত্মক অস্পষ্টতা। মালিকানা, ইজারা ও ব্যবস্থাপনায় অস্বাভাবিক বিলম্ব, রহস্যজনক ফাইল জট, নথিতে অসঙ্গতি—সবই প্রশ্ন তুলছে রাজউকের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।

সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ: অফিস চলাকালীন মাদক সেবন- এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সব অভিযোগকে ছাপিয়ে গেছে সবচেয়ে গুরুতর দাবি: লিটন সরকারের বিরুদ্ধে অফিস চলাকালীন মাদক সেবনের অভিযোগ। একাধিক সূত্র উল্লেখ করছেন ফেনসিডিল সেবনের কথাও। অথচ, কোনো স্বাধীন বা দৃশ্যমান তদন্ত নেই।
নীরব প্রশাসন: রাজউক কি প্রভাবশালীর কাছে অসহায়?
এত অভিযোগ, এত ভুক্তভোগী, তবু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। প্রশ্ন উঠছে—
*রাজউক প্রশাসনের জবাবদিহিতা কোথায়?
*অভ্যন্তরীণ নজরদারি কি কেবল কাগজে-কলমে?
*নাকি প্রভাবশালীদের কাছে রাজউকও নিরাশ্রয়?

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে, রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জনগণের আস্থাহীনতার ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়বে।
নীরবতা এখন আর নির্দোষ নয়—নীরবতা মানেই সন্দেহ।
চলবে…

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।