রবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজউকের গুলশান এস্টেটে ‘অদৃশ্য তন্ত্র’: লিটন সরকার কি আইনের ঊর্ধ্বে? *ফাইল আটকে কোটি টাকার খেলা, অফিসেই ‘মাদক সেবন’—অভিযোগে তোলপাড় রাজউক*

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৫, ২০২৬ ২:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়নের দায়িত্বে থাকা রাজউক—যে প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও আইনের প্রতীক। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানই কি এখন এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে?
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি—রাজউকের গুলশান এস্টেট ও ভূমি–৩ শাখার উপ–পরিচালক মো. লিটন সরকার (আইডি: ১৭১৪৯) যেন নিজের একটি অঘোষিত ‘ক্ষমতার সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন। আইন, নীতি ও প্রশাসনিক নিয়ম—সবকিছু নাকি সেখানে নির্ভর করছে এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ওপর।

একক কর্তৃত্ব, অঘোষিত সিন্ডিকেট- অভিযোগ উঠেছে, গুলশান এস্টেট শাখায় জমি বরাদ্দ, ইজারা, নিলাম ও ফাইল হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কার্যত একটি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র বলছে, লিটন সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ঠিকাদার, ডেভেলপার ও প্রভাবশালী মহলের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে একটি অঘোষিত কন্ট্রাক্ট সিন্ডিকেট। ফলে রাজউকে জমি সংক্রান্ত কোনো কাজ করতে হলে নিয়ম নয়—প্রথমে চিনতে হয় কার দরজায় কড়া নাড়তে হবে। একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্য— কাগজপত্র ঠিক থাকলেও ফাইল মাসের পর মাস পড়ে থাকে। পরে ইঙ্গিত আসে—ম্যানেজ না করলে কাজ এগোবে না।

কোটি টাকার জমি, কোটি টাকার খেলা- গুলশান, বনানী ও বারিধারা—রাজধানীর সবচেয়ে দামী আবাসিক এলাকা। এখানে কাঠাপ্রতি জমির মূল্য কয়েক কোটি থেকে দশ কোটিরও বেশি। এমন জায়গায় একটি ফাইল নোট বা একটি স্বাক্ষরের আর্থিক প্রভাব বিশাল।
রাজউকের কাঠামো অনুযায়ী, উপ–পরিচালকের নোট ও সুপারিশ ছাড়া অনেক ফাইল পরবর্তী ধাপে যায় না। অভিযোগকারীদের দাবি—এই সুযোগকে ব্যবহার করেই প্রভাব খাটিয়ে কোটি টাকার লেনদেনের পথ তৈরি হয়েছে। রাজউকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— গুলশানের মতো জায়গায় ফাইল আটকে রাখা বা ছাড় দেওয়ার দুটোরই বাজার আছে। এ কারণেই অভিযোগ বেশি।

এদিকে রহস্যজনক ফাইল জট ও ‘উধাও’ নথি
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে পরিত্যক্ত বাড়ি ও মালিকানা–জটিল প্লট নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে সাধারণত হস্তান্তর বা উন্নয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—গুলশানের কয়েকটি এমন সম্পত্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। কোথাও পুরোনো বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে, কোথাও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ঝুলছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রেকর্ড রুমে নেই। রেকর্ড রুমের এক কর্মী বলেন— কিছু হোল্ডিং নম্বর দেখলেই বোঝা যায় ফাইল এখানে নেই। এগুলো ‘সংবেদনশীল’ হিসেবে আলাদা করে রাখা হয়। কেন সংবেদনশীল—সেই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারেননি।

অফিসে ‘ব্যক্তি বন্দনা’ প্রতিবাদে শাস্তি- অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, গুলশান এস্টেট শাখায় নিয়মের বদলে চলছে ব্যক্তিগত ক্ষমতার প্রভাব। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই অভিযোগ করেন—প্রতিবাদ করলে বদলি, অপমান বা নানাভাবে চাপের মুখে পড়তে হয়। ফলে ভেতরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের নীরবতার সংস্কৃতি।

আবার সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ: অফিসেই মাদক সেবন। সব অভিযোগকে ছাপিয়ে সবচেয়ে গুরুতর যে দাবি উঠেছে—তা হলো অফিস চলাকালীন মাদক সেবনের অভিযোগ। একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, লিটন সরকারের বিরুদ্ধে ফেনসিডিলসহ মাদক সেবনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের ওয়াশরুমকেই নাকি নিরাপদ ‘স্পট’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য তদন্ত বা ডোপ টেস্ট হয়নি বলে জানা গেছে।

প্রশ্নের মুখে রাজউক প্রশাসন- এত অভিযোগ, এত ভুক্তভোগী—তবু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে— রাজউকের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা কোথায়? নজরদারি কি কেবল কাগজে–কলমে?
নাকি প্রভাবশালী মহলের কাছে প্রশাসনও নীরব?
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ এখন একটি কথাই ঘুরছে রাজউকের ভেতরে-বাইরে— “নীরবতা কখনও কখনও নির্দোষ নয়—নীরবতা মানেই সন্দেহ।
পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে আরও বিস্ফোরক তথ্য।চোখ রাখুন সমতল মাতৃভূমি’র প্রকাশিত নিউজ পোর্টালে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ