উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক বিশ্বজিৎ ঘুষ নেওয়ায় শাস্তির দাবিতে চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ জমা দিয়েছেন ইমন হাসান আকাশ। ১১ অগাস্ট এ অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ মার্চ ২৭৬ নং গুলবাগ শাজাহানপুর থানাধীন রাজউক জোন ৬/১ এর অথরাইজড অফিসার বরাবরে একখানা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ওই এলাকার দায়িত্বে থাকা ইমারত পরিদর্শক বিশ্বজিৎ সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযোগকারী নিকট থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। ঘুষের টাকা নেওয়ার পরে আজকাল নোটিশ দেবে বলে সময় হরণ করতে থাকে। অভিযোগকারী টাকা ফেরত চাইলে আর দেখা করেনা এবং ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে দৈনিক কালের ছবির সিটি রিপোর্টার মোঃ সাগর ইসলাম গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণ করার বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে জনস্বার্থে জোন ৬ /১ এর অথরাইজড অফিসার বরাবরে তিন খানা লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অথরাইজড অফিসার হাসানুজ্জামান বিশ্বজিৎ কে তদন্ত পূর্বক নোটিশ প্রদান করার নির্দেশ দেন। বিশ্বজিৎ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে নোটিশ না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকে। আবার নোটিশ না দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ, জরিমানা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন গণমাধ্যম কর্মীদের।
সূত্র জানায়, মোবাইল কোর্ট চলাকালীন সিঙ্গেলে বাড়ির মালিকের সাথে পরামর্শ করে বের হয়ে আসেন। এখানে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে বিশ্বজিৎ এর বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, ১. ডাক্তার পারভেজ বাড়ি নাম্বার ১০১ পুরাতন ছয় তালা গলি, থানা-মুগদা মানিক নগর, ১২০৩। ২ কাঠা জমির উপর একটি নকশা ছাড়া সাত তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। এ অভিযোগে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
২. মোঃ কামাল হোসেন বাড়ি নাম্বার ৭৬/সি পুরাতন ছয়তলা গলি, থানা- মুগদা মানিকনগর ১২০৩। তিনি পৌনে দুই কাঠা জমির উপর নকশা ছাড়া ৭ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ।রাজউক এর অনুমোদিত নকশা নাই
৩. মোঃ হালিম মিয়া বাড়ি নম্বর ৭৪/ডি/এফ উনিশ কাঠা গলি, বালুর মাঠ, থানা-মুগদা ঢাকা ১২০৩। ৪ কাঠা জমির উপর একটি সাড়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন। যার কোন অনুমোদিত নকশা নাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর বিশ্বজিৎ ভবন মালিকদের সঙ্গে গোপনে একাধিক বার যোগাযোগ করে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছেন। এছাড়াও তার কর্মকাণ্ডে রাজউকে আসা সেবা গ্রহীতারা অভিযোগ তুলেছেন।এসব অপকর্মের দায়ে ওএসডি হয়েছে। পুনরায় দায়িত্ব ফিরে পেতে তদবির চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করতে দেখা গেছে।রাজউক কার্যালয়ে বেশি ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। বিশ্বজিৎ এর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
এসব বিষয় জানতে চেয়ে বিশ্বজিৎ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। ঘুষের টাকা ফেরত দিবেন কিনা এ মর্মে খুলে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব মেলেনি।
