শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি
রাজধানী যেন এক আতঙ্কের নগরী। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে গেল নৃশংস ঘটনায়। রায়েরবাজারে কিশোরী স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা এবং হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনে ৬ বছরের শিশুর রহস্যজনক লাশ—দুই ঘটনাতেই শোক, ক্ষোভ ও ভয়ের ছায়া নেমে এসেছে নগরজুড়ে।
বাসার নিচেই রক্তাক্ত স্কুলছাত্রী- রাজধানীর রায়েরবাজারে বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে গলির ভেতর ভয়ংকর হামলার শিকার হয় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি। স্থানীয়দের চিৎকারে ছুটে এসে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান—রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তাদের আদরের মেয়েটি।
বিন্তির বাবা বেল্লাল হোসেন জানান, ছোট ভাইকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই হইচই শুনে নিচে নেমে মেয়েকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত প্রথমে শিকদার মেডিকেল, পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাকে।
মায়ের অভিযোগ, সিয়াম নামে এক তরুণ দীর্ঘদিন ধরে মোবাইলে বিরক্ত করছিল বিন্তিকে। কয়েক বছর আগে বিষয়টি নিয়ে তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। নাদিয়ার কান্নাভেজা কণ্ঠ— আজ আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে, আমি হত্যার বিচার চাই।
পুলিশ জানায়, কাঁধ ও পিঠে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনে শিশুর লাশ: রহস্য ঘনীভূত
এরই মধ্যে রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলনে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নির্মাণাধীন একটি ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে ভেসে ওঠে ৬ বছরের শিশু তাহেদী আক্তার তাসনিনের নিথর দেহ।
সন্ধ্যায় বাইরে খেলতে গিয়ে আর ঘরে ফেরেনি তাসনিন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাসার সামনের ভবনের ভেতরে পানিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—শিশুটিকে নিপীড়নের পর হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে। পরে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা নেয় পুলিশ এবং ভবনের দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
তবে পুলিশ বলছে, শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আতঙ্ক, ক্ষোভ ও প্রশ্ন- দুই ঘটনায়ই শোকের পাশাপাশি উঠে এসেছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন।
*বাসার নিচে কিশোরী নিরাপদ নয় কেন?
*নির্মাণাধীন ভবনগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
*শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তায় নজরদারি কোথায়?
রাজধানীর এই রক্তাক্ত দুই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—অপরাধের ভয়াল ছায়া কতটা কাছাকাছি।
