মঙ্গলবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজারবাগে জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগ কুখ্যাত ভূমিদস্যু রফেজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকার রাজারবাগ এলাকায় জাল দলিল ও প্রতারণার মাধ্যমে জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ভূমিদস্যু রফেজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আইন ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাৎ করে আসছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তির বৈধ মালিক মোঃ সাইদুল হক গং-এর কাছ থেকে মামলা পরিচালনার কথা বলে রফেজ হাওলাদার একটি আমোক্তারনামা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রতারণামূলকভাবে ওই আমোক্তারনামা ব্যবহার করে তিনি সম্পত্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন এবং জাল সাব-কবলা দলিল সৃষ্টি করে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করেন।

এছাড়াও মান্ডা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ গং-এর প্রায় ৯০ শতক জমি (দাগ নং ১০৬৫) জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই কায়দায় রাজারবাগ মৌজার শাহজানপুর এলাকার বেনজির নামীয় সম্পত্তির দলিল জাল করে রফেজ হাওলাদার ও তার সহযোগী বারেক হাওলাদার তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীমের কাছে হস্তান্তর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তার নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, মোঃ সাইদুল হক গং-এর পিতা আব্দুল হক ১৯৬৪ সালে ঢাকার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩৪৮২ নং সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এসএ জরিপে সম্পত্তিটি তাদের নামে নামজারি হয়। তবে আরএস জরিপের সময় ভুলবশত সম্পত্তিটি আরএস ২০৩০ নং খতিয়ানে লক্ষ্মীনারায়ণ দে সরকার গং-এর নামে এবং হাল সাং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে রেকর্ড হয়।

এই ভুল রেকর্ড সংশোধনের জন্য মোঃ সাইদুল হক গং ২০০১১ সালে ঢাকা ৪র্থ সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ৪৯/২০১১ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে সম্পত্তিটি ‘ক’ তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে প্রকাশিত হলে মামলা এ্যাবেট হয়। এরপর তিনি অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকায় অর্পিত মোকদ্দমা নং ১৯৪০/১২ দায়ের করেন এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৯/১১/২০১৯ তারিখে রায় ও ডিগ্রি লাভ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ০৪/১০/২০১৮ তারিখের একটি আমোক্তারনামাকে অপব্যবহার করে রফেজ হাওলাদার ১১/১১/২০২৪ তারিখে ১১২৯৫ ও ১১২৯৬ নং সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৪৯৫ অযুতাংশ সম্পত্তি জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী সেফালী বেগমের নামে বিক্রি করেন।

এই প্রতারণার বিরুদ্ধে মোঃ সাইদুল হক গং রফেজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ৮১৮৬ নং রেজিস্টার্ড আমোক্তার দলিল বাতিল চেয়ে ঢাকা ৪র্থ সহকারী জজ আদালতে দায়েরকৃত দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ৬৬/২০২০ মামলায় আদালত ২৬/০১/২০২৫ তারিখে উক্ত আমোক্তার দলিল বাতিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৬/০২/২০২৫ তারিখে সেই আদেশ খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে, সর্বশেষ ১৫/০১/২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন। আবেদনে জাল কাগজপত্র সৃজন করে তপশিলভুক্ত জমি আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, রফেজ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরেই কুখ্যাত ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। মিথ্যা মামলা ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখাই তার নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর কাছে তিনি এখন এক ভয়ংকর আতঙ্কের নাম।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।