ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে আর উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজনীতি নয়—যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। “রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে”—এই সংস্কৃতি চিরতরে বিলুপ্ত করতে চান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ পরিণত হয় জনতার সমুদ্রে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ যে ‘হ্যাঁ’ ভোট, সেটিই স্বাধীনতার ভোট। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামী। প্রথম ভোটের মর্যাদা নিশ্চিত না হলে পরের কোনো ভোটেরও মূল্যায়ন হবে না।”
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন সাধারণ রিকশাচালকের সন্তান মেধা ও যোগ্যতায় একদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে। বংশ নয়, পরিচয় নয়—যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি।”
কওমি মাদরাসা আমাদের কলিজা— জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদরাসা বন্ধ হয়ে যাবে—এমন অপপ্রচারের কড়া জবাব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, যারা ভয় দেখায় তারা মতলববাজ। কওমি মাদরাসা আমাদের কলিজা। ইসলামী শিক্ষা আজও টিকে আছে আমাদের কারণেই। আমরা কথা নয়, কাজে প্রমাণ করব।
যুবকদের জন্য ভাতা নয়, মর্যাদার কর্মসংস্থান :
যুবসমাজকে ‘বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমি তোমাদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। তোমাদের প্রতিটি হাতকে দেশ গড়ার হাতিয়ার বানাতে চাই। এমন দিন আসবে, যখন প্রত্যেক যুবক বলবে—আমিই বাংলাদেশ।”
নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার
নারীদের ঘরে বন্দি করার অপপ্রচার নাকচ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের মা-বোনেরা আজ উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। মায়েদের দোয়া ও আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির রাজনীতিকে ‘লাল কার্ড’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র ও দুর্নীতিতে দেশকে ডুবিয়েছে—সেই পঁচা রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান—সবাই এ দেশের সমান নাগরিক।”
আবরার ফাহাদকে স্মরণ—
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে তিনি বলেন,
“ফেনী নদী নিয়ে সত্য কথা বলায় আবরারকে জীবন দিতে হয়েছে। তার আত্মা ফেনীবাসীর কাছে রেখে গেলাম। যতদিন ফেনী থাকবে, ততদিন আবরার থাকবে।”
ফেনীর জন্য উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—
ফেনীতে লালপুল ওভারপাস, সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং আধুনিক স্টেডিয়ামের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, দেশের কোনো জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত থাকবে না। ফেনী তার ন্যায্য পাওনা পাবে, বঞ্চিত হবে না।
১১ দল, এক প্রতীক, এক বাংলাদেশ—
ফেনীর তিনটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এরা কোনো একক দলের নয়—এরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রার্থী। আমাদের প্রতীক স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়ের প্রতীক।”
বিএনপি চেয়ারপারসনসহ প্রয়াত নেতাদের স্মরণ—-
বক্তব্যের একপর্যায়ে সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ জামায়াতের প্রয়াত নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। সকাল ৮টা থেকেই জনসমাবেশ শুরু হয় এবং পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
