শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিভিউ ছদ্মবেশী এক স্নাইপারের খোঁজে

বিনোদন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ ৫:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দ্য ডে অব দ্য জ্যাকাল সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন এডি রেডমেইন। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনাস্থল জার্মানির মিউনিখ। চ্যান্সেলর নির্বাচনের দৌঁড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিবিদ মানফ্রেড ফেস্ট যাচ্ছেন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। গাড়িবহরে কড়া নিরাপত্তা। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরাও ঘিরে রেখেছে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশ। বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকেও এলাকাটি নজরে রাখছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

কালো রঙের সুরক্ষিত গাড়ি থেকে নেমে অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকার মুহূর্তেই একটি বুলেট এসে আঘাত করে মানফ্রেডের মাথার পেছনে। হন্তদন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা যখন দূরবীনে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন, তখনই এক ভবনে কয়েক সেকেন্ডের জন্য আলোর ঝিলিক দেখা যায়। যেটি ঘটনাস্থল থেকে ২ দশমিক ৩ মাইল বা সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে।

নিরাপত্তারক্ষীরা যতক্ষণে ভবনটিতে পৌঁছান ততক্ষণে সব ধরনের প্রমাণ গায়েব করেন স্নাইপার। এলাকাটি ছেড়ে চলেও যান অনেকটা নির্ভার হয়ে। যেন কোথাও কিছুই হয়নি।

মিউনিখের এই ঘটনার রেশ গড়ায় লন্ডনে। গোয়েন্দারা সন্দেহ করেন, কেবল ব্রিটিশ এক নাগরিকই এত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম রাইফেল বানাতে পারেন। কিন্তু বড় যে প্রশ্নটি ওঠে সেটি হলো- রাইফেলটি চালিয়েছে কে?
এই স্নাইপারের খোঁজেই এগোয় ১০ পর্বের টিভি সিরিজ ‘দ্য ডে অব দ্য জ্যাকাল’ এর গল্প। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ব্রিটিশ সিরিজটি ফ্রেডরিক ফরসাইথের একই নামের উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত। গল্পটি ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো সিনেমায় রূপ দিয়েছিলেন অস্কারজয়ী অস্ট্রিয়া-আমেরিকান পরিচালক ফ্রেড জিনেম্যান। টিভি সিরিজে একাধিক পরিচালকের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরেক অস্কারজয়ী শিল্পী এডি রেডমেইন। যাকে সহজেই চিনবেন স্টিফেন হকিংয়ের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত ‘থিওরি অব এভরিথিং’ সিনেমা দেখে থাকলে।

ইউরোপের রাজনীতি, ষড়যন্ত্র
সিরিজে এডি রেডমেইনের ছদ্মনাম ‘জ্যাকাল’। মিউনিখে মানফ্রেড ফেস্টকে হত্যার পর তাঁর পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হন টেক-বিলিয়নিয়ার উলে দাগ চার্লস। এ কাজের জন্য জ্যাকালকে ভাড়া করে চার্লসের প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী পক্ষ। ইউরোপে চার্লসের প্রভাব এতটাই বেশি যে, তাঁর মৃত্যু অঞ্চলটির রাজনীতি ও অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম। মূলত, চার্লসকে হত্যার অভিযানের সময়ই এডি রেডমেইনের ছদ্মনাম রাখা হয় জ্যাকাল।
মিউনিখ থেকে মাদ্রিদ, এক দেশ থেকে আরেক দেশে- জ্যাকাল যেন ছায়ার মতো চলাফেরা করেন। আধুনিক প্রযুক্তি তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র, আবার ঝুঁকিও। তাঁর পিছু নেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্সের এজেন্ট বিয়াঙ্কা পুলম্যান (লাশানা লিঞ্চ)। শুরুতে এটি নিছক একটি অভিযান হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিয়াঙ্কার কাছে এই তাড়া হয়ে ওঠে এক ধরনের নেশা। যেটির খেসারত দিতে হয় ব্যক্তিগত জীবনে।

এই সিরিজ শুধু কে কাকে মারবে সেই গল্প বলে না। বরং দেখায়, একজন ঘাতক কী হারায়, আর একজন গোয়েন্দা সত্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে কীভাবে নিজের সবকিছু ভাঙচুর করে ফেলে।

ঠান্ডা মাথার উত্তাপ
সিরিজে এডি রেডমেইন খুবই কম কথা বলেন। তাঁর চোখের দৃষ্টি আর অভিব্যক্তিহীন মুখ- এমন এক ঘাতকের চেহারা তৈরি করে, যাকে দেখে অস্বস্তি হয়। বিশেষ করে ছদ্মবেশ বদলের দৃশ্যগুলো দেখার সময় বোঝা যায়, এই চরিত্রে তিনি কতটা পরিশ্রম করেছেন।

অপরদিকে লাশানা লিঞ্চ তাঁর বিয়াঙ্কা চরিত্রটিকে বানিয়েছেন একেবারে রক্ত মাংসের মানুষ। গোয়েন্দা হিসেবে তিনি নিখুঁত নন, ভুল করেন, আবেগে ভাঙেন। আর ঠিক সেখানেই চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
সিরিজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শহরগুলো যেমন চোখ জুড়ায়, তেমনি অন্ধকার দৃশ্যগুলোতে থাকে এক ধরনের বিষন্ন সৌন্দর্য। ক্যামেরার কাজ অনেক সময় সিনেমার মতো অনুভূতি দেয়। ফোলকার বের্টেলমানের আবহ সংগীত পুরো সিরিজজুড়ে অজানা আশঙ্কা ধরে রাখে। কোথাও কোথাও রেডিওহেডের গান দৃশ্যকে আরও ভারী করে তোলে।

কেন আলাদা এই ‘জ্যাকাল’?
সিরিজের সবচেয়ে বড় শক্তি খুঁটিনাটি বা ডিটেইল তুলে ধরার ক্ষেত্রে। একজন ঘাতক কীভাবে নিজ হাতে রাইফেলের অংশগুলো আলাদা করে, পাসপোর্ট জাল করে এবং ট্রিগারে আঙুল রেখে দিনের পর দিন অপেক্ষা করে একটি নিখুঁত শটের জন্য- সবকিছু দেখানো হয়েছে প্রায় তথ্যচিত্রের মতো করে। যেখানে অতিরঞ্জন নেই, আছে ধৈর্য আর বাস্তবতার চাপ।
১০ পর্বের সিরিজটি ইউরোপকেন্দ্রিক হওয়ায় এর আবহ ও উত্তেজনাকে প্রায়ই তুলনা করা হয় আরেক ব্রিটিশ টিভি সিরিজ ‘দ্য নাইট ম্যানেজার’ এর প্রথম মৌসুমের সঙ্গে। নাইট ম্যানেজারে টম হিডলস্টন বা জোনাথন পাইনের চরিত্রটি ছিল স্পষ্টতই নায়কোচিত। বিপরীতে জ্যাকাল কোনো হিরো নয়। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এই সাবেক সদস্য কেবলই পেশাদার অপরাধী। কিন্তু তাঁর অপরাধী হয়ে ওঠার পেছনের কারণ প্রায় ঝাপসাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

যদি দ্য নাইট ম্যানেজার হয় গতির খেলা, তাহলে দ্য ডে অব দ্য জ্যাকাল হলো ধৈর্যের পরীক্ষা। কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে নিশানা ঠিক করার অপেক্ষার মুহূর্তগুলো দর্শককে টানটান উত্তেজনার অনুভূতি দেয়।

কেন দেখবেন?
আপনি যদি এমন থ্রিলার খোঁজেন যেখানে গায়ের জোরের চেয়ে মাথার খেলা বেশি এবং উত্তেজনা তৈরি হয় নীরবতা আর অপেক্ষা থেকে- তাহলে দ্য ডে অব দ্য জ্যাকাল আপনার জন্য। সামান্য ধীরগতি ছাড়া বড় কোনো দুর্বলতা নেই।

২০২৪ সালের স্পাই ড্রামার তালিকায় এটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে পরিণত ও স্মরণীয় কাজগুলোর একটি। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘দ্য নাইট ম্যানেজার-২’ দেখে হতাশ হয়ে থাকলে ‘দ্য ডে অব দ্য জ্যাকাল’ সে ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।