ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রকে পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের শান্ত আবাসিক এলাকা রুপাতলী হাউজিং—যেখানে সন্ধ্যার বাতাসে থাকার কথা ছিল নিরিবিলি জীবনের গল্প, সেখানে হঠাৎই জমে ওঠে উত্তেজনার নাটকীয় দৃশ্য। এক দম্পতির ব্যক্তিগত কলহ যেন মুহূর্তেই রূপ নেয় সংঘর্ষ, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের তীব্র অধ্যায়ে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ‘ছায়া নিকেতন’ নামের একটি ভবনে শুরু হয় ঘটনার সূত্রপাত। স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। প্রথমে কথার লড়াই, এরপর তর্ক—আর তারপরই পরিস্থিতি মোড় নেয় এক অপ্রত্যাশিত উত্তেজনায়।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে “ছাত্রলীগ” ট্যাগ দিয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মুহূর্তেই এলাকায় তৈরি হয় আতঙ্ক—মবের মতো ভিড়, চিৎকার, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে যেন সিনেমার ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন—মাহমুদুল হাসান পলাশ, আকরাম খান ইমন, রাকিব হাসান রনি ও মুয়িদুর রহমান বাকি—যারা ইতোমধ্যে ছাত্রত্ব শেষ করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে আটক করা হয় স্থানীয় ডিস সংযোগ ব্যবসায়ী রুম্মন হাওলাদারকেও। পরে সবাইকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
তবে ঘটনার ভেতরের গল্প আরও জটিল। জানা যায়, ওই ভবনের মালিক সাইফুর রহমান শুভ ও তার স্ত্রীর মধ্যে চলছিল পারিবারিক কলহ। স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সেখানে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভবনের ভাড়াটিয়া ও শিক্ষার্থী তমাল এ বিষয়ে আপত্তি তুললে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
এক পর্যায়ে বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা খবর দেয়—এখানে ছাত্রলীগ অবস্থান করছে! আর সেই খবরেই যেন আগুনে ঘি পড়ে। ক্যাম্পাস থেকে ছুটে আসে আরও ছাত্রদল নেতাকর্মী, ঘিরে ফেলে পুরো ভবন—তৈরি হয় এক চাপা ভয়ের পরিবেশ।
আবার স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কেউ বলছেন—এটি ছিল ভুল বোঝাবুঝির ফল, আবার কেউ অভিযোগ করছেন পরিকল্পিতভাবে “ট্যাগিং” করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হয়েছে।
ভবন মালিক সাইফুর রহমান শুভ তার ফেসবুক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, স্বামী-স্ত্রীর সামান্য কলহকে কেন্দ্র করে বাইরে থেকে এসে কিছু ছাত্র পরিস্থিতি জটিল করে তোলে এবং আমার বাসায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে ছাত্রদল নেতাদের ভাষ্য—তাদের কাছে খবর ছিল, সেখানে ছাত্রলীগের লোকজন অবস্থান করছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক দ্বন্দ্ব—যা হয়তো নিভৃতে মিটে যেতে পারত—তা মুহূর্তেই রূপ নিল উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতে। আর সেই সংঘাত এখন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা কোথায় শেষ, আর রাজনীতির ছায়া কোথায় শুরু?
