ফাইল ছবি
পবিত্র রমজানের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। আগামী ১২ মার্চ অথবা তার দু-একদিন আগে অধিবেশন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার তৃতীয় কর্মদিবস হলেও তেজগাঁও কার্যালয়ে ছিল প্রথম অফিস।
সংসদ অধিবেশনে যেসব বিষয় আসছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আসন্ন অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি হওয়া বিভিন্ন অধ্যাদেশ উপস্থাপন এবং শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ও এ অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে থাকবে।
ঈদের আগেই ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী
মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও আইসিটি উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, ঈদের আগেই পর্যায়ক্রমে দেশের মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্যও মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রস্তুতি শেষ করে কিছু এলাকায় ঈদের আগেই এই সম্মানী প্রদান শুরু হবে।
কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা
বৈঠকে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি চাকরি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিন তেজগাঁও কার্যালয়ে
শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছালে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কার্যালয় প্রাঙ্গণে স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা রোপণ করেন। পরে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
এদিন মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিটও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রিসভার একাধিক সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মতৎপরতায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
