রাজধানীর গুলশান, বনানী, মিরপুর ও তেজগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অঢেল সম্পদের মালিক সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) বর্তমান চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান। তার নামে রয়েছে ৩৩ কাঠার ওপর ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটসহ দুটি বাড়ি, বনানীতে একটি ফ্ল্যাট এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক ফ্লোর। এছাড়া সারা দেশে তিন শতাধিক বিঘা জমি ও বিভিন্ন ব্যাংকে শতকোটি টাকার ডিপোজিট রয়েছে।
তবে আয়কর নথিতে মোখলেসুর রহমানের সম্পত্তির পরিমাণ মাত্র ২১ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরও আয়কর নথিতে অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। সরকারি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার ও আর্থিক সম্পদ ২৫৬ কোটি, ব্যবসায়ীক মূলধন, লিমিটেড কোম্পানির মালিকানা, নির্মাণাধীন বাড়ি, গাড়ি ও ব্যাংক ব্যালেন্স ৪১ কোটি এবং কৃষি ও অকৃষি জমির পরিমাণ মাত্র ২১ কোটি টাকা।
মোখলেসুর রহমানের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০ বিঘা বা ৬ হাজার কাঠার বেশি জমি রয়েছে। রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকায় বহুতল বাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের মালিকানাসহ তেজগাঁও শিল্প এলাকায়ও দুটি বাণিজ্যিক ফ্লোর তার দখলে রয়েছে। এছাড়া তার নামে কয়েক কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। তবে এসব সম্পদের তথ্য তিনি আয়কর নথিতে গোপন করেছেন।
শুধু নিজের সম্পদই নয়, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামেও বড় ধরনের সম্পদ রয়েছে। স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে রয়েছে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, মেয়ে মায়েশা মালিহার নামে ১৩২ কোটি এবং ছেলে মুশফিকুর রহমানের নামে ১৫৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আয়কর নথিতে এই সম্পদের বড় অংশ দেখানো হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিজের অর্জিত সম্পদ গোপন করতে তিনি স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের নামে সম্পদ লিখেছেন।
এছাড়া মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাংক পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা ও অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেছেন এবং নিজ পছন্দের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়েছেন। ব্যাংকের নতুন ঋণ অনুমোদন, বেনামি ঋণ বিতরণ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে এএমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মনীতির লঙ্ঘন করেছেন। এতে ব্যাংকে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার কারণে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদত্যাগ করেছেন।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আয়কর নথিতে সম্পদের তথ্য গোপন করা রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মোখলেসুরের সম্পদ অর্জন ও নিয়োগ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
মোখলেসুর রহমানের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক উত্থানও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। চুয়াডাঙ্গায় পোল ফ্যাক্টরি দিয়ে তার ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়। পরে ছয়টি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বিঅ্যান্ডটি গ্রুপ অব কোম্পানি গড়ে তোলেন এবং ধাপে ধাপে অঢেল সম্পদের মালিক হন।
