ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও পৈশাচিক ঘটনা। চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে নিয়ে আট বছরের নিষ্পাপ কন্যাশিশুর শ্বাসনালি কেটে হত্যার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বাবু শেখ (৫০)।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরিনের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
কীভাবে ঘটল নির্মমতা?
অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সরোয়ার হোসেন লাবলু জানান, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রনাথ পাহাড়সংলগ্ন পাহাড়ে শিশুটিকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন প্রতিবেশী বাবু শেখ। শিশুটির আর্তচিৎকারে চেষ্টা ব্যর্থ হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি দিয়ে গলা কেটে দেন তিনি।
রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে মৃত ভেবে খাদে ফেলে রেখে চলে যান। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গলাকাটা শিশুটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে আসে। সেখানে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করেন।
প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি অস্ত্রোপচারও করা হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
সিসিটিভির সূত্রে গ্রেপ্তার– ঘটনার পর পাহাড়ে ওঠার সব পথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজের সূত্র ধরেই মঙ্গলবার সকালে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেখানো মতে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকা থেকে শিশুটির পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
পরিবারে শোক, সরকারের আশ্বাস–
শিশুটির পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে তাদের বাড়িতে যান মীর হেলাল। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যার ছক কষে বাবু শেখ।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। পাহাড়ের নীরবতা ভেঙে যে আর্তনাদ উঠেছিল, তা আজও বাতাসে ভাসছে—একটি নিষ্পাপ প্রাণের ন্যায়বিচারের দাবিতে।
