মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় আবারও ভারী বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে। গতকাল শনিবার রাতভর সেখানে বিমান হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে সীমান্তে বসবাসরত বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বিকট শব্দে আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ওপারের মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্ত এলাকাগুলো কেঁপে উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ রোববার সকালে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমারে নির্বাচন শুরু হয়েছে বলে জেনেছি। কিন্তু তার আগে রাত থেকে আমাদের সীমান্ত এলাকায় গোলার বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী লোকজন ভয়ের মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাতে সীমান্তের ওপার থেকে কিছুক্ষণ পরপর থেমে থেমে বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। অনেক সময় ধরে যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। মূলত রাখাইনে বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর তুমুল লড়াই চলছে। সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এবং শূন্য লাইন থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভেতরে বলিবাজার এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
উখিয়া সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মো. ইমরান বলেন, ‘রাতে সীমান্তে বিকট শব্দে ঘুমাতে পারিনি। তবে সকাল থেকে কোনো ধরনের গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়নি। আমরা আতঙ্কে রয়েছি। কারণ, আরকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন রাজ্যের পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় সীমান্তে পরিস্থিতি আবারও খারাপের দিকে যাবে। তবে সে দেশে নির্বাচন চলছে, সেটি শেষ হলে খুব ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। সে কারণেও মানুষের মাঝেও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন বলেন, ‘হোয়াইক্যং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার নিকটবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এবং শূন্য লাইন থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভেতরে বলিবাজার এলাকায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে সে দেশের অভ্যন্তরের ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে।
