ছবি: ফাইল
ভূমধ্যসাগরের নির্মম ঢেউ কেড়ে নিল ইউরোপগামী ১৮ বাংলাদেশির জীবন। লিবিয়া থেকে রাবারের ছোট নৌকায় করে স্বপ্নের দেশে যাওয়ার পথে তারা হারিয়ে গেল অনন্ত সাগরে—যেখানে ক্ষুধা, তৃষ্ণা আর মৃত্যুভয় ছিল একমাত্র সঙ্গী।
এদিকে বেঁচে ফেরা ২১ জনের বর্ণনায় উঠে এসেছে বিভীষিকার গল্প—ছয় দিন দিকহারা ভাসমান নৌকা, ফুরিয়ে যাওয়া খাবার-পানি, আর একে একে নিভে যাওয়া প্রাণ। মৃতদের দেহ দুদিন নৌকায় রেখে শেষে সাগরের বুকে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন তারা—এক হৃদয়বিদারক বিদায়, যেখানে শেষবার ছুঁয়ে দেখারও সুযোগ হয়নি।
আবার এই মৃত্যুযাত্রার পেছনে রয়েছে মানব পাচার চক্রের নিষ্ঠুর ফাঁদ। জনপ্রতি ১২ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে স্বপ্ন বিক্রি করা দুই মূল হোতা ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে; তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অথচ তারা এখনো দেশের বাইরে, ধরাছোঁয়ার বাইরে।
নিহতদের অধিকাংশই সুনামগঞ্জের—কেউ বাবার চায়ের দোকানের স্বপ্ন নিয়ে, কেউ পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচানোর আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন অজানার পথে। নাঈমের মতো অনেকেই শেষবার মেসেজে জানিয়েছিলেন—“পানি নেই, খাবার নেই, আমাকে ফিরিয়ে নাও…।
এই ট্র্যাজেডি শুধু মৃত্যু নয়, এটি ভাঙা স্বপ্ন, নিঃস্ব পরিবার আর এক নির্মম বাস্তবতার গল্প—যেখানে ইউরোপের মোহ শেষ হয় সাগরের নোনাজলে।
তবুও থামছে না এই বিপজ্জনক যাত্রা। দালালদের মিথ্যা আশ্বাস আর সচ্ছলতার লোভে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিচ্ছে মানুষ—আর প্রতিবারই সাগর যেন নতুন করে লিখছে মৃত্যুর গল্প।
