সাবিহা আক্তারের মায়ের আহাজারি। ছবি: সমতল মাতৃভূমি
ভোলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য দেওয়া ইনজেকশনের পর শ্বাসকষ্টে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোমবার দুপুরে ১২ টার দিকে ভোলা সদর রোডের হাবিব মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রসূতির নাম সাবিহা আক্তার (২০)। তিনি সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মহাজনের পুল এলাকার মো. নাহিদের স্ত্রী এবং ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার আবুল কালামের মেয়ে।
হাঁটতে হাঁটতে হাসপাতালে, ফিরলেন নিথর মরদেহ হয়ে।নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সাবিহা আক্তার সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় হেঁটে হাবিব মেডিকেল সেন্টারে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে স্বাভাবিক প্রসব হবে বলে আশ্বস্ত করেন। এরপর হাসপাতালের এক কর্মী সাবিহাকে ভর্তি হতে চাপ দেন। কিছুক্ষণ পর এক নার্স প্রসবব্যথা ত্বরান্বিত করার কথা বলে তাকে একটি ইনজেকশন দেন।
ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাবিহার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিস্তেজ হয়ে মারা যান।
চিকিৎসক-নার্সদের উধাও, নামও জানেন না স্বজনরা।ঘটনার পরপরই হাসপাতালের নার্স, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা কৌশলে সরে পড়েন।
নিহতের স্বামী মো. নাহিদ জানান, সাবিহাকে ঠিক কোন চিকিৎসক দেখেছিলেন, সে নাম পর্যন্ত তারা জানতে পারেননি। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনরা।
এদিকে ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে, স্বজন ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
হাসপাতালের দাবি: চিকিৎসায় ভুল হয়নি– হাবিব মেডিকেল সেন্টারের এক স্টাফ রাজীব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ক্লিনিকে আনার আগেই রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি হয়নি।হাসপাতালটির মালিকানা রয়েছে ২৯ জনের হাতে। এর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মো. সাদেক বলেন, পারভীন নামে একজন গাইনি চিকিৎসক ওই প্রসূতিকে দেখছিলেন। তাঁর পরামর্শেই ইনজেকশন দেওয়া হয়। মৃত্যুর সময় তিনি জুমার নামাজে ছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
ময়নাতদন্ত, তদন্ত কমিটির করার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ও নার্সদের আটকের চেষ্টা চলছে। পরিবার মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মুহা. মনিরুল ইসলাম জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কী ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে পারেনি। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
