হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বাহরাইনের দেওয়া প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। প্রতীকী ছবি: আলজাজিরার সৌজন্যে
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই উত্তেজনার মাঝেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাহরাইনের আনা প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে—যা যেন একদিকে নিরাপত্তার আশ্বাস, অন্যদিকে সম্ভাব্য সংঘাতের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।
কূটনৈতিক অন্দরমহলে চাপা উত্তেজনা।‘ব্লু প্রিন্ট’ হয়ে যাওয়া এই প্রস্তাব এখন ভোটের অপেক্ষায়—কিন্তু কখন হবে সেই ভোট? এ নিয়েই দ্বিধা। কেউ বলছেন আজ, কেউ বলছেন কাল—যেন সময়ও দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত দ্বারপ্রান্তে।
প্রস্তাবটির ভাষায় রয়েছে শক্তির ইঙ্গিত—হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে। আর এখানেই যেন শুরু হয়েছে মতবিরোধের ঝড়। ভেটো ক্ষমতাধর চীন সরাসরি বলেছে—এটি বেআইনি শক্তি প্রয়োগের পথ খুলে দেবে। রাশিয়া ও ফ্রান্সও তাদের আপত্তির সুর মিলিয়েছে।
নীরব সম্মতির প্রক্রিয়াও ভেঙে গেছে—যেন কূটনীতির নিস্তব্ধতায় হঠাৎ বজ্রপাত! চীন,রাশিয়া ও ফ্রান্স সেই নীরবতা ভেঙে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তাদের অস্বস্তি।
অন্যদিকে,উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—এ ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে,যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো। চূড়ান্ত খসড়ায় সরাসরি যুদ্ধের অনুমোদন না থাকলেও ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’র সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে—যা অনেকের চোখে এক ধরনের পরোক্ষ সামরিক ইঙ্গিত।
ছয় মাসের জন্য কার্যকর এই প্রস্তাব যেন এক অদৃশ্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত খেলায়।
এরই মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, নিজেদের তেল নিজেরাই নিয়ে আসতে হবে— যেন এক শীতল বার্তা,কিন্তু ভেতরে লুকানো তীব্র বাস্তবতা।
২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ—বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের ছায়া নেমে এসেছে। সেই অন্ধকারে এই প্রস্তাব যেন একদিকে আলো,অন্যদিকে সম্ভাব্য বিস্ফোরণের আগুন।
এখন সবার চোখ নিরাপত্তা পরিষদের দিকে—একটি ভোট,একটি সিদ্ধান্ত,আর তার ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়।
