হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয় আজ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি—প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ও আলমগীর হোসেনকে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আদালতে তোলা হয়েছে।
রোববার উত্তর চব্বিশ পরগনার বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দু’জনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন। তাদের এই বক্তব্যে নতুন করে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
এর আগে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাদের বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে হত্যার বিষয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তারা—নীরবতাই যেন ছিল তাদের একমাত্র আশ্রয়।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন তারা। পরিকল্পনা ছিল সুযোগ বুঝে আবারও বাংলাদেশে ফিরে আসার—কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
পরে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন। সেই রিমান্ড শেষে ফের আদালতে হাজির করা হলে মামলাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছায়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এখন প্রশ্ন একটাই—অভিযুক্তদের অস্বীকারের আড়ালে লুকিয়ে আছে কী সত্য? তদন্তের পরবর্তী ধাপেই মিলতে পারে সেই উত্তর।
