রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হারবাল ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা কারখানা: টঙ্গীতে মিনিল্যাবসহ গ্রেপ্তার শিমুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

* স্বল্প খরচে ভেজাল মিশিয়ে ৫০০ পিস থেকে ৫ হাজার ইয়াবা তৈরি—ডিএনসির অভিযানে বিপুল সরঞ্জাম ও ট্যাবলেট জব্দ*

গাজীপুরের টঙ্গীতে হারবাল ট্যাবলেট তৈরির আড়ালে গড়ে তোলা ইয়াবার ‘মিনিল্যাব’ থেকে তৌহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে তার বাসা থেকে ট্যাবলেট তৈরির ডাইস, কাঁচামাল, রঙ, ফ্লেভার, স্টার্চ, ক্যাফেইন এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে হারবাল উদ্যোক্তা ও কেমিস্ট পরিচয়ে পরিচিত শিমুল স্বল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় অবৈধ মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন। টঙ্গীর বসুন্ধরা কাজীবাড়ী পুকুরপাড় এলাকায় নিজের বাসাতেই গোপনে ইয়াবা তৈরির মিনিল্যাব স্থাপন করেন তিনি। আগে হারবাল ট্যাবলেট তৈরিতে ব্যবহৃত ডাইস ও প্রেস মেশিন দিয়েই ইয়াবা উৎপাদন চলত।
ভেজাল মিশিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, কারবারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৫০০ পিস ইয়াবা গুঁড়া করে তাতে বাজার থেকে কেনা রঙ, ফ্লেভার, স্টার্চজাত আঠালো উপাদান ও ক্যাফেইন মিশিয়ে নতুন করে ট্যাবলেট বানানো হতো। বিশেষ ছাঁচে চাপ দিয়ে তা ইয়াবার আকার দেওয়া হতো। এভাবে মূল উপাদানের সঙ্গে ভেজাল মিশিয়ে উৎপাদন প্রায় দশগুণ বাড়িয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার পিস ট্যাবলেট বাজারজাত করা হচ্ছিল। ঢাকাসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় এসব সরবরাহের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। অভিযানে ধরা পড়ল মিনিল্যাব
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ডিএনসির গোয়েন্দা দল টঙ্গীর বাসায় অভিযান চালিয়ে মিনিল্যাবের সন্ধান পায় এবং শিমুলকে গ্রেপ্তার করে। প্রায় চার মাস ধরে তিনি বাসায় বসেই ইয়াবা তৈরি ও সরবরাহ করছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এমনকি নিজেও ইয়াবা সেবন করতেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় ডিএনসির উপপরিদর্শক আবু নাসের বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। শুক্রবার শিমুলকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার পাইথালী এলাকায়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
ডিএনসি কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের মিনিল্যাবে তৈরি ট্যাবলেটে মাদকের মাত্রা অনির্দিষ্ট থাকে—কখনও অতিরিক্ত উত্তেজক, আবার কখনও কার্যকারিতা কম। অনিয়ন্ত্রিত ক্যাফেইন ও রাসায়নিকের মিশ্রণে হৃদ্‌যন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, ছোট আকারের মিনিল্যাব শনাক্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে টঙ্গীর এই ল্যাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং সরবরাহ নেটওয়ার্ক কোথায় বিস্তৃত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানীর ওয়ারীতে ‘কুশ’ মাদকের ল্যাব এবং ২০১৯ সালে ধানমন্ডির জিগাতলায় ক্রিস্টাল মেথ (আইস) তৈরির ল্যাবের সন্ধানও পেয়েছিল ডিএনসি। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় আবারও ছোট পরিসরে গড়ে ওঠা মাদক উৎপাদন কেন্দ্রগুলো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।