ছবি: সংগৃহীত
৩৫ বছরের পর যেন কেউ আইনজীবী হতে না পারেন, সে পথ বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বার কাউন্সিল থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত আইন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
এদিকে, আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। আগামী ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ১৯ আগস্ট বার কাউন্সিল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির মতামতে বলা হয়, আইন পেশার মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ এবং পেশাকে অধিকতর গতিশীল রাখার লক্ষ্যে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে একটি সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা সমীচীন। গত ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির সভায় আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে একটি যৌক্তিক সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয় এবং ওই সুপারিশ কাউন্সিল সভায় উপস্থাপন করা হয়।
সাইবার আইন নিয়ে সাংবাদিকদের ভয়ের কোনো কারণ নেই
এদিকে অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার আইন নিয়ে সাংবাদিকদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, এখানে আপনাদের উদ্বেগ যেটা আছে, সেটা অবশ্যই আইন তৈরির করার ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাইবার আইন নিয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্য থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসছে। সেখানে একটা জায়গায় সবাই একমত হয়েছে, সেটা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষকে যেভাবে অ্যাবিউজ করা হচ্ছে এবং এআই ব্যবহার করে যেভাবে বিতর্কিত করা হচ্ছে, সেটার ক্ষতির হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য একটা শক্তিশালী আইন হওয়া প্রয়োজন। এটা মোটামুটি সবাই এক জায়গায় একমত হয়েছে। আইনের ভাষাটা কী হবে, সেটা বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্নভাবে আসছে। আমরা পর্যালোচনা করে চুড়ান্ত করার পর সেটা নিয়ে সংসদে যাব। সুতরাং এখনও এটা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আমরা এখনও এটা ফাইনাল ড্রাফটিংয়ের পর্যায়ে যাইনি।
সাংবাদিকদের উদ্বেগ নিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কনসার্নের জায়গা ছিল। আমরা সাংবাদিকদের কনসার্ন যেটা আছে, সেটাও বিবেচনায় রাখব এবং সেখানে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই। সাংবাদিকরা, যারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন, আপনাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত কোনো আইনে খুব বেশি মামলা হয়েছে বলে মনে হয় না। সেটাকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে সামনের দিকে এগোবো। ৫৭ ধারার অপব্যবহার কিংবা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অপব্যবহার যে হয়েছে, সেটা আমাদের মাথায় আছে। অংশীজনদের সাথে আলোচনার পর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের হুশিয়ারি
কোনো আইনজীবী যদি কোনোরকম অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন এবং পেশায় যত শক্তিশালী ব্যক্তি হোক না কেন বার কাউন্সিল আইনের মধ্য থেকে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি কোনোরকম অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এজিও-ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে কনভোকেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের বর্তমান রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস প্রমুখ।
