তদবির করে বদলি আদেশ জারির অভিযোগ, প্রকল্পের নথিপত্র জব্দ করেছে দুদক। ফাইল ছবি
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। প্রায় ৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান এবং প্রকল্পের নথিপত্র জব্দের মধ্যেই তাঁর এই বদলি নিয়ে বান্দরবানে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর বদলির বিষয়টি প্রকাশ পায়।
জেলা পরিষদের একটি সূত্রের দাবি, মন্ত্রণালয়ে তদবির করে মো. নজরুল ইসলাম নিজেই এই বদলি আদেশ জারি করিয়েছেন।
এর আগে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হলেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের অধিকাংশ কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলাম। প্রকৌশলী না হয়েও তাঁকে ওই প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়ায় বান্দরবানে শুরু থেকেই নানা সমালোচনা ছিল।
প্রকল্পটির উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে।
এদিকে প্রকল্পটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়।
দুদকের অভিযানে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চলছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই তড়িঘড়ি করে বান্দরবান ছাড়ছেন প্রকল্পের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম—এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
জেলা পরিষদের একটি সূত্রের দাবি, “দুদকের নজর এড়াতে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে তড়িঘড়ি করে নিজের বদলি আদেশ জারি করান তিনি।” তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ এবং এর পরপরই প্রকল্প পরিচালকের বদলি—সব মিলিয়ে বান্দরবানে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
