সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার দাবিতে রাজধানীতে তীব্র আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরা। শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে আন্দোলনকারীদের ওপর জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।
সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে রওনা দেন আন্দোলনকারীরা। তবে শাহবাগ মোড়ে পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দিলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এতে সাময়িকভাবে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হলেও কিছু সময়ের মধ্যেই তারা আবার সংগঠিত হয়ে যমুনার দিকে অগ্রসর হন। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে আবারও পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা যমুনার দিকে এগিয়ে গেলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর উপস্থিতিতে আবারও পুলিশ অ্যাকশনে যায়। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় অবস্থান করছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তাজনিত কারণে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও জমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজিবি মোতায়েন
এদিকে রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনার নিরাপত্তা জোরদার করতে কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ছয় প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে এর আগে টানা তিন দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন সরকারি কর্মচারীরা। পরে বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টার কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সারাদেশে সরকারি, আধা-সরকারি ও পে-স্কেলের আওতাভুক্ত দপ্তরগুলোতে কর্মবিরতি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
