সোমবার, ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘রাউজানে নলকূপের গর্তে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু,পাঁচ ঘণ্টার প্রাণপণ উদ্ধার চেষ্টাও বাঁচাতে পারল না চার বছরের মেজবাহকে!

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খেলতে খেলতেই গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে চট্টগ্রামের রাউজানে মুহাম্মদ মেজবাহ নামে চার বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘর থেকে মাত্র ৩০–৪০ ফুট দূরে থাকা অনিরাপদ একটি গর্তের প্রায় ১২ ফুট নিচে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকা ছিল সে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রাণপণ উদ্ধার চেষ্টার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

আজ বুধবার ২৮ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মেজবাহ একই এলাকার দিনমজুর সাইফুল আলমের ছেলে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে রাউজান ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ থেকে আরও একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। গভীর গর্তে শিশুটি আটকে পড়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে খননযন্ত্র ও ভ্যাকুয়াম পদ্ধতির সহায়তা নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময়ের চেষ্টা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

চট্টগ্রাম নগর থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, “শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু গর্তটি অনেক গভীর হওয়ায় এবং সে ভেতরে অনেক নিচে চলে যাওয়ায় আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।”

নিহত শিশুর বাবা সাইফুল আলম বলেন, “আমি প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বিকেল পাঁচটার দিকে ঘরে ফিরে দেখি আমার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে শুনি পাশের একজন নলকূপের পাইপের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ পেয়েছেন। তখনই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কোন সান্ত্বনাই যেন প্রবোধ মানাতে পারছেন না।

ছেলের নিথর দেহ উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ‘মেজবাহ… মেজবাহ’ বলে আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া বসতঘরের কাছেই সুপেয় পানির জন্য সরকারি অর্থায়নে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এলাকাটি টিলাভূমি হওয়ায় নলকূপ স্থাপনের সময় গভীর গর্ত খোঁড়া হলেও তা যথাযথভাবে সুরক্ষিত করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এই অনিরাপদ গর্তই শিশুটির মৃত্যুর কারণ।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আবু তালেব বলেন, “শিশুটি পড়ার পর আমরা কান্নার শব্দ শুনেছি। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সবাই চেষ্টা করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো গেল না।”

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

রাউজান ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শামসুল আলম জানান, “শিশুটি প্রায় ১২ ফুট গভীরে আটকে ছিল। সন্ধ্যার পর চট্টগ্রাম শহর থেকে অতিরিক্ত তিনটি ইউনিট নিয়ে অভিযান জোরদার করা হয়।”

এক মুহূর্তের অসতর্কতা আর অনিরাপদ নলকূপের গর্ত কেড়ে নিল একটি নিষ্পাপ প্রাণ। মেজবাহের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই বয়ে আনল গভীর শোক ও বেদনা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।