ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় ছেলেসন্তান না থাকার সুযোগে এক ব্যক্তির পৈতৃক জমি ও বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে আপন ছোট ভাই ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত মোঃ জামাল উদ্দিন (৫০) বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুন (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, উপজেলার ১০ নম্বর বিসকা ইউনিয়নের বিসকা পূর্ব পাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বিবাহিত কন্যা রুনা আক্তার রূপা (২৭) বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আহত জামাল উদ্দিনের কোনো ছেলেসন্তান নেই। তার দুই কন্যাসন্তানই বিবাহিত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বসতবাড়িসহ পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক আত্মসাৎ ও দখলের ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন তার আপন ছোট ভাই মোঃ আলতাফ হোসেন (৪৮) ও তার পরিবারের সদস্যরা।
গত শুক্রবার সকালে জামাল উদ্দিনের মেয়ে রুনা আক্তার রূপা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। দুপুরে জামাল উদ্দিন জুমার নামাজে যাওয়ার আগে বাড়ির পাশের পতিত জমি থেকে নিজের গরু আনতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ নম্বর বিবাদী আলতাফ হোসেন হত্যার উদ্দেশ্যে তার বড় ভাই জামাল উদ্দিনের মাথায় কুড়াল দিয়ে উপর্যুপরি কোপ মারেন, এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
জামাল উদ্দিনের চিৎকার শুনে তার মেয়ে রুনা আক্তার রূপা ও প্রতিবেশী ভাতিজা (২ নম্বর সাক্ষী) এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আলতাফ হোসেনের স্ত্রী সালমা আক্তার (৪৫) এবং মেয়ে শারমিন নাহার আশা (২৬) বাঁশের লাঠি দিয়ে জামাল উদ্দিন ও তার মেয়েকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফোলা জখম করেন।
হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লাঠিসোটা ও কুড়ালের আঘাতের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় জামাল উদ্দিনকে ফেলে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা খুন করে হলেও জমি দখল করা হবে বলে- প্রকাশ্যে হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় জামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
বাদী রুনা আক্তার রূপা বলেন, আমাদের কোনো ভাই না থাকায় এবং বাবার চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। হামলাকারীরা এখনো আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এলাকাজুড়ে ক্ষোভ, প্রশাসনের আশ্বাস
এলাকাবাসী জানান, ছেলেসন্তান না থাকায় জামাল উদ্দিনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই অসহায় অবস্থায় ছিল। সেই সুযোগে আপন ভাইয়ের এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
